Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

সংসারের ভার ছোট কাঁধে

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 03:17:52 pm, Saturday, 23 April 2022
  • 1288 বার

আরিয়ান বলে, ‘মা তেমন কাজ করতে পারে না। তাই আমি শাক তুলে এবং মোচা নিয়ে বিক্রি করতে যাই। এক আঁটি শাক ১০ টাকা বিক্রি করি। অনেক সময় কেউ পাঁচ টাকা দিয়েও এক আঁটি নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে যে যা দেয়, তাতেই দিয়ে দিই। এর বাইরে এলাকার লোকজন ইট টানা, পানি নেওয়াসহ যেকোনো কাজে ডাকলে আমি যাই। অনেক সময় ২০-৫০ টাকা দেয়, আবার কিছু খেতে দিয়েই শেষ করে কেউ কেউ।’

এসব কাজ করে দুজনের খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো চলে কি না, এমন প্রশ্নে আরিয়ান বলে, ‘ওই যা পাই তাই দিয়ে চলে। যেদিন চাইল আনতে পারি ওই দিন খাই, যেদিন আনতে পারি না, ওই দিন খাই না। শুধু ভাত হলেই চলে আমাদের, লবণ দিয়ে খেতে পারি আমি।’ এই বলে হেসে দেয় আরিয়ান।

আরিয়ানের মা আমেনা আক্তার প্রিয়া বলেন, ‘বিয়ের পরে স্বামী ও দেবরেরা খুব মারধর করত। ঘরে সৎমা থাকায় বাবাও খোঁজ নেন না। আরিয়ান গর্ভে আসার এক মাস পরেই স্বামী ছেড়ে চলে যায়। মামলা করেছিলেন আদালতে, অভিভাবক না থাকায় আদালত থেকে আমাকে সরকারি হেফাজতখানায় দিয়ে দেয়। সেখানেই আরিয়ানের জন্ম হয়। পরে চলে আসি বাবার বাড়িতে। সেখানে প্রতিনিয়ত সৎমা ও প্রতিবেশীদের অত্যাচার সহ্য করতে হয়।’

আমেনা আক্তার আরও বলেন, নিজের জন্য তিনি কিছুই চান না। তিনি চান, তাঁর ছেলেটা লেখাপড়া শিখুক, তিনবেলা খেয়ে-পরে বাঁচুক। ওর জন্য একটি স্থায়ী ঘর চান; যেখান থেকে কেউ নেমে যেতে বলবে না।

এদিকে আরিয়ানের অসহায় জীবনের গল্প শুনে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদ। গতকাল শুক্রবার সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাছির উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ মুছাব্বেরুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আরিয়ানের বাড়িতে যান। আরিয়ান ও তার মাকে নতুন পোশাক, জুতা, চাল, ডাল, তেল, লবণ, মসলা, ফলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেন। আরিয়ানের মাকে নগদ অর্থও দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাছির উদ্দিন।

ইউএনও মোহাম্মাদ মুছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা আরিয়ানের নামে একটি ব্যাংক হিসাব খুলে দেবেন। আরিয়ানকে কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে ওই হিসাবের মাধ্যমে করবেন। এ ছাড়া আরিয়ানের লেখাপড়া ও মায়ের কর্মসংস্থানের জন্য তাঁরা বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছেন। আরিয়ান ও তার মা যেটা ভালো মনে করবে, তাঁরা সেভাবে সহযোগিতা করবেন।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাছির উদ্দিন বলেন, বাগেরহাট-২ আসনের সাংসদ শেখ সারহান নাসের তন্ময়ের নির্দেশে তাঁরা আরিয়ানের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। একটি সরকারি ঘর দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

সংসারের ভার ছোট কাঁধে

আপডেট টাইম : 03:17:52 pm, Saturday, 23 April 2022

আরিয়ান বলে, ‘মা তেমন কাজ করতে পারে না। তাই আমি শাক তুলে এবং মোচা নিয়ে বিক্রি করতে যাই। এক আঁটি শাক ১০ টাকা বিক্রি করি। অনেক সময় কেউ পাঁচ টাকা দিয়েও এক আঁটি নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে যে যা দেয়, তাতেই দিয়ে দিই। এর বাইরে এলাকার লোকজন ইট টানা, পানি নেওয়াসহ যেকোনো কাজে ডাকলে আমি যাই। অনেক সময় ২০-৫০ টাকা দেয়, আবার কিছু খেতে দিয়েই শেষ করে কেউ কেউ।’

এসব কাজ করে দুজনের খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো চলে কি না, এমন প্রশ্নে আরিয়ান বলে, ‘ওই যা পাই তাই দিয়ে চলে। যেদিন চাইল আনতে পারি ওই দিন খাই, যেদিন আনতে পারি না, ওই দিন খাই না। শুধু ভাত হলেই চলে আমাদের, লবণ দিয়ে খেতে পারি আমি।’ এই বলে হেসে দেয় আরিয়ান।

আরিয়ানের মা আমেনা আক্তার প্রিয়া বলেন, ‘বিয়ের পরে স্বামী ও দেবরেরা খুব মারধর করত। ঘরে সৎমা থাকায় বাবাও খোঁজ নেন না। আরিয়ান গর্ভে আসার এক মাস পরেই স্বামী ছেড়ে চলে যায়। মামলা করেছিলেন আদালতে, অভিভাবক না থাকায় আদালত থেকে আমাকে সরকারি হেফাজতখানায় দিয়ে দেয়। সেখানেই আরিয়ানের জন্ম হয়। পরে চলে আসি বাবার বাড়িতে। সেখানে প্রতিনিয়ত সৎমা ও প্রতিবেশীদের অত্যাচার সহ্য করতে হয়।’

আমেনা আক্তার আরও বলেন, নিজের জন্য তিনি কিছুই চান না। তিনি চান, তাঁর ছেলেটা লেখাপড়া শিখুক, তিনবেলা খেয়ে-পরে বাঁচুক। ওর জন্য একটি স্থায়ী ঘর চান; যেখান থেকে কেউ নেমে যেতে বলবে না।

এদিকে আরিয়ানের অসহায় জীবনের গল্প শুনে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদ। গতকাল শুক্রবার সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাছির উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ মুছাব্বেরুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আরিয়ানের বাড়িতে যান। আরিয়ান ও তার মাকে নতুন পোশাক, জুতা, চাল, ডাল, তেল, লবণ, মসলা, ফলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেন। আরিয়ানের মাকে নগদ অর্থও দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাছির উদ্দিন।

ইউএনও মোহাম্মাদ মুছাব্বেরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা আরিয়ানের নামে একটি ব্যাংক হিসাব খুলে দেবেন। আরিয়ানকে কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে ওই হিসাবের মাধ্যমে করবেন। এ ছাড়া আরিয়ানের লেখাপড়া ও মায়ের কর্মসংস্থানের জন্য তাঁরা বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছেন। আরিয়ান ও তার মা যেটা ভালো মনে করবে, তাঁরা সেভাবে সহযোগিতা করবেন।

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার নাছির উদ্দিন বলেন, বাগেরহাট-২ আসনের সাংসদ শেখ সারহান নাসের তন্ময়ের নির্দেশে তাঁরা আরিয়ানের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। একটি সরকারি ঘর দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।