Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

সিত্রাং বাগেরহাটের আমন চাষীদের জন্য আশীর্বাদ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 06:29:46 pm, Thursday, 27 October 2022
  • 156 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় এ বছর আমন মৌসুমে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের রামপালের চাষীরা পানি সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়লেও সিত্রাং এর প্রভাবে পানি পেয়ে ভালো ফলনের আশা করছেন আমন চাষিরা। সার্বিকভাবে এবার আমন আবাদ কম হলেও আবাদ মৌসুমের শেষ সময়ে কৃষকেরা মাঠে নেমে আমন আবাদ করেছেন। এতে চলতি মৌসুমের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

কৃষক ফিরোজ কবির জানান, অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় চাষীরা একদম হাল ছেড়ে হতাশ হয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে ছিলেন। সময় মতো মৌসুমি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং পানিতে তীব্র লবনাক্ত থাকায় এবার হয়তো আমন আবাদ হবেই না এমনটা মনে করেছেন এলাকার কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কিছুটা বৃষ্টিপাত হওয়ায় আশার আলো দেখতে পান কৃষকেরা। মৌসুমের শেষ সময়ে অতি কষ্টে কৃষকরা নতুন করে জমিতে আমন আবাদ করেন। আমি প্রায় পাঁচ একর জমিতে আমন আবাদ করেছি। এখনো কোন রোগ বালাই লাগেনি। আশা করি ফলন ভালো হবে।

একই অনূভুতি ব্যক্ত করেন পার্শ্ববর্তী সিংগড় বুনিয়া গ্রামের সাইফুল মোল্লা। তিনি বলেন আমি ৪-৫ বিঘা জমিতে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আমন আবাদ করেছি। আবাদ মোটামুটি ভালো। সিত্রাং ঝড়ে ভীত হয়ে পড়েছিলাম। এখন দেখছি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমন আবাদের জন্য অশির্বাদ হয়ে পড়েছে। রামপাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রাণী মন্ডল তার সহকারী কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে আমন উৎপাদনে সার্বিক সহযোগিতায় কৃষকদের সাথে মাঠে কাজ করছেন। কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, কৃষি উপকরণ ও হাইব্রিড ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান বীজ বিতরণসহ সরকারের সকল সহায়তা প্রদান করে চলেছেন। মাঠে নেমে কৃষকদের উৎসাহিত করছেন। এতে রামপাল উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি চলে যান।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর। এর মধ্যে উফশী ৪ হাজার ২২০ হেক্টর, হাইব্রিড ৭০ হেক্টর ও স্থানীয় জাত ৩ হাজার ৯৬০ হেক্টর। কিন্তু আবাদ হয়েছে উফশী ৫ হাজার ৪৬৮ হেক্টর, হাইব্রিড ২৯৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২ হাজার ৭৫ হেক্টর আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মাত্র ৫ ভাগ আবাদ কম হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রাণী মন্ডল বলেন, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যাতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়। যে কোন প্রয়োজনে কৃষকগণ আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ বা সেবা নিতে পারবেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

সিত্রাং বাগেরহাটের আমন চাষীদের জন্য আশীর্বাদ

আপডেট টাইম : 06:29:46 pm, Thursday, 27 October 2022

বাগেরহাট প্রতিনিধি:অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় এ বছর আমন মৌসুমে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের রামপালের চাষীরা পানি সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়লেও সিত্রাং এর প্রভাবে পানি পেয়ে ভালো ফলনের আশা করছেন আমন চাষিরা। সার্বিকভাবে এবার আমন আবাদ কম হলেও আবাদ মৌসুমের শেষ সময়ে কৃষকেরা মাঠে নেমে আমন আবাদ করেছেন। এতে চলতি মৌসুমের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

কৃষক ফিরোজ কবির জানান, অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় চাষীরা একদম হাল ছেড়ে হতাশ হয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে ছিলেন। সময় মতো মৌসুমি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং পানিতে তীব্র লবনাক্ত থাকায় এবার হয়তো আমন আবাদ হবেই না এমনটা মনে করেছেন এলাকার কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কিছুটা বৃষ্টিপাত হওয়ায় আশার আলো দেখতে পান কৃষকেরা। মৌসুমের শেষ সময়ে অতি কষ্টে কৃষকরা নতুন করে জমিতে আমন আবাদ করেন। আমি প্রায় পাঁচ একর জমিতে আমন আবাদ করেছি। এখনো কোন রোগ বালাই লাগেনি। আশা করি ফলন ভালো হবে।

একই অনূভুতি ব্যক্ত করেন পার্শ্ববর্তী সিংগড় বুনিয়া গ্রামের সাইফুল মোল্লা। তিনি বলেন আমি ৪-৫ বিঘা জমিতে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আমন আবাদ করেছি। আবাদ মোটামুটি ভালো। সিত্রাং ঝড়ে ভীত হয়ে পড়েছিলাম। এখন দেখছি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমন আবাদের জন্য অশির্বাদ হয়ে পড়েছে। রামপাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রাণী মন্ডল তার সহকারী কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে আমন উৎপাদনে সার্বিক সহযোগিতায় কৃষকদের সাথে মাঠে কাজ করছেন। কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, কৃষি উপকরণ ও হাইব্রিড ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান বীজ বিতরণসহ সরকারের সকল সহায়তা প্রদান করে চলেছেন। মাঠে নেমে কৃষকদের উৎসাহিত করছেন। এতে রামপাল উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি চলে যান।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর। এর মধ্যে উফশী ৪ হাজার ২২০ হেক্টর, হাইব্রিড ৭০ হেক্টর ও স্থানীয় জাত ৩ হাজার ৯৬০ হেক্টর। কিন্তু আবাদ হয়েছে উফশী ৫ হাজার ৪৬৮ হেক্টর, হাইব্রিড ২৯৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২ হাজার ৭৫ হেক্টর আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মাত্র ৫ ভাগ আবাদ কম হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রাণী মন্ডল বলেন, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যাতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়। যে কোন প্রয়োজনে কৃষকগণ আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ বা সেবা নিতে পারবেন।