Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

সুন্দরবন ভ্রমণ সহজ হলো

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 12:04:29 am, Friday, 1 July 2022
  • 121 বার

পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরবনের এ খাত থেকে রাজস্ব আয় হবে চার থেকে পাঁচ গুণ।

নিউজ ডেস্ক:পদ্মা সেতুর সুবাতাস বইতে শুরু করেছে সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পে। সেতু হওয়ায় এই পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়া অনেক সহজ হয়ে গেলো। দেশের যেকোনও প্রান্ত থেকে এবার সড়কপথে সুন্দরবন যাওয়া যাবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এবার এই ম্যানগ্রোভ বনে পর্যটকদের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ জন্য আরও ব্যাপকভাবে সাজানো হচ্ছে ম্যানগ্রোভ এই বনকে। গড়ে তোলা হচ্ছে আরও চারটি ইকোট্যুরিজম। জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সড়কপথে দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে বাগেরহাটের মোংলা হয়ে সরাসরি যাওয়া যাবে সুন্দরবনে। এটি ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য আকর্ষণীয় বিষয়। ফলে আশা করা হচ্ছে, ভ্রমণ মৌসুমে সুন্দরবনে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়বে। সমৃদ্ধ হবে অর্থনীতি।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরে সুন্দরবনে পর্যটক এসেছে এক লাখ ২০ হাজার। এখান থেকে সুন্দরবন বিভাগের রাজস্ব আয় হয়েছে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সুন্দরবনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। পর্যটকের সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি রাজস্বও বাড়বে।’ তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে পর্যটকের চাপ সামলাতে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী ও দুবলা এবং পশ্চিম বিভাগের হিরণ পয়েন্ট ও কলাগাছিয়া এই সাত ইকো ট্যুরিজমের সঙ্গে নতুন আরও চারটি ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র যোগ করা হচ্ছে। সুন্দরবন ইকো ট্যুরিজম প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক, শরণখোলা রেঞ্জের আলী বান্দা এবং পশ্চিম বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের শেখের টেক ও কালাবগিতে নতুন এই ট্যুরিজমগুলো নির্মাণ করা হবে। এসব ইকো ট্যুরিজমে পর্যটকদের সুব্যবস্থার জন্য গোলঘর, ফুটট্রেলার, পাবলিক শৌচাগার, ওয়াচ টাওয়ার ও রাস্তা করা হবে।’

বন কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘পর্যটন হোক বা ইকো ট্যুরিজম হোক এর মধ্যে অন্যতম সুবিধা হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় সুন্দরবন কেন্দ্রিক ইকো ট্যুরিজমে আসতে অনীহা প্রকাশ করতেন অনেক পর্যটক। কিন্তু এখন সেতু চালু হওয়ায় অতিরিক্ত পর্যটকের ঢল নামবে। তাই চাপ সামলাতে নতুন চারটিসহ মোট ১১টি ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র থেকে সেবা দেওয়া যাবে।’

সুন্দরবনের ট্যুরিজম ব্যবসায়ী গোলাম রহমান বিটু বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় অধিকাংশ সময় পর্যটক আসতে চাইতো না। এখন যেহেতু পদ্মা সেতু চালু হয়েছে, তাই আগের চিত্র পাল্টে যাবে। দূরত্ব কমে যাওয়ায় পর্যটকদের আকর্ষণও বাড়বে।’

সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সুন্দরবন সংলগ্ন স্থানীয়রাও। বনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের সঙ্গে অনেকেই জড়িত। পদ্মা সেতুর দ্বার উন্মোচনের পাশাপাশি সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে অবকাঠামো ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হলে দর্শনার্থীরাও আনন্দ পাবেন।’

পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, ‘সুন্দরবনের ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে জলভাগের পরিমাণ ১৮৭৪ দশমিক এক বর্গ কিলোমিটার। যা সমগ্র সুন্দরবনের আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ ভাগ। এই বনে বাঘ, হরিণ, বানরসহ ৩১৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী এবং সুন্দরী, বাইন, গরানসহ ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। মূলত এসব দেখতেই প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় মাঝে মাঝে মৌসুমেও পর্যটকদের ভাটা পড়তো। এখন সেতু চালু হওয়ায় পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরবনের এ খাত থেকে রাজস্ব আয় হবে চার থেকে পাঁচ গুণ।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

সুন্দরবন ভ্রমণ সহজ হলো

আপডেট টাইম : 12:04:29 am, Friday, 1 July 2022

পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরবনের এ খাত থেকে রাজস্ব আয় হবে চার থেকে পাঁচ গুণ।

নিউজ ডেস্ক:পদ্মা সেতুর সুবাতাস বইতে শুরু করেছে সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পে। সেতু হওয়ায় এই পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়া অনেক সহজ হয়ে গেলো। দেশের যেকোনও প্রান্ত থেকে এবার সড়কপথে সুন্দরবন যাওয়া যাবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এবার এই ম্যানগ্রোভ বনে পর্যটকদের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ জন্য আরও ব্যাপকভাবে সাজানো হচ্ছে ম্যানগ্রোভ এই বনকে। গড়ে তোলা হচ্ছে আরও চারটি ইকোট্যুরিজম। জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সড়কপথে দেশের যে কোনও প্রান্ত থেকে বাগেরহাটের মোংলা হয়ে সরাসরি যাওয়া যাবে সুন্দরবনে। এটি ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য আকর্ষণীয় বিষয়। ফলে আশা করা হচ্ছে, ভ্রমণ মৌসুমে সুন্দরবনে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়বে। সমৃদ্ধ হবে অর্থনীতি।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘২০২১-২২ অর্থবছরে সুন্দরবনে পর্যটক এসেছে এক লাখ ২০ হাজার। এখান থেকে সুন্দরবন বিভাগের রাজস্ব আয় হয়েছে এক কোটি ২৫ লাখ টাকা। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সুন্দরবনে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। পর্যটকের সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি রাজস্বও বাড়বে।’ তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে পর্যটকের চাপ সামলাতে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী ও দুবলা এবং পশ্চিম বিভাগের হিরণ পয়েন্ট ও কলাগাছিয়া এই সাত ইকো ট্যুরিজমের সঙ্গে নতুন আরও চারটি ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র যোগ করা হচ্ছে। সুন্দরবন ইকো ট্যুরিজম প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক, শরণখোলা রেঞ্জের আলী বান্দা এবং পশ্চিম বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের শেখের টেক ও কালাবগিতে নতুন এই ট্যুরিজমগুলো নির্মাণ করা হবে। এসব ইকো ট্যুরিজমে পর্যটকদের সুব্যবস্থার জন্য গোলঘর, ফুটট্রেলার, পাবলিক শৌচাগার, ওয়াচ টাওয়ার ও রাস্তা করা হবে।’

বন কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘পর্যটন হোক বা ইকো ট্যুরিজম হোক এর মধ্যে অন্যতম সুবিধা হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় সুন্দরবন কেন্দ্রিক ইকো ট্যুরিজমে আসতে অনীহা প্রকাশ করতেন অনেক পর্যটক। কিন্তু এখন সেতু চালু হওয়ায় অতিরিক্ত পর্যটকের ঢল নামবে। তাই চাপ সামলাতে নতুন চারটিসহ মোট ১১টি ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র থেকে সেবা দেওয়া যাবে।’

সুন্দরবনের ট্যুরিজম ব্যবসায়ী গোলাম রহমান বিটু বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় অধিকাংশ সময় পর্যটক আসতে চাইতো না। এখন যেহেতু পদ্মা সেতু চালু হয়েছে, তাই আগের চিত্র পাল্টে যাবে। দূরত্ব কমে যাওয়ায় পর্যটকদের আকর্ষণও বাড়বে।’

সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সুন্দরবন সংলগ্ন স্থানীয়রাও। বনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের সঙ্গে অনেকেই জড়িত। পদ্মা সেতুর দ্বার উন্মোচনের পাশাপাশি সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে অবকাঠামো ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হলে দর্শনার্থীরাও আনন্দ পাবেন।’

পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, ‘সুন্দরবনের ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে জলভাগের পরিমাণ ১৮৭৪ দশমিক এক বর্গ কিলোমিটার। যা সমগ্র সুন্দরবনের আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ ভাগ। এই বনে বাঘ, হরিণ, বানরসহ ৩১৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী এবং সুন্দরী, বাইন, গরানসহ ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। মূলত এসব দেখতেই প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় মাঝে মাঝে মৌসুমেও পর্যটকদের ভাটা পড়তো। এখন সেতু চালু হওয়ায় পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরবনের এ খাত থেকে রাজস্ব আয় হবে চার থেকে পাঁচ গুণ।’