Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

সুপেয় পানির জন্য হাহাকার

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 09:46:51 pm, Sunday, 10 April 2022
  • 120 বার

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় হাতে গোনা কয়েকটি সুপেয় পানির পুকুর রয়েছে। এসব পুকুর থেকেই খাবার পানি সংগ্রহ করেন উপজেলাবাসী। সব থেকে বেশি দুর্দশা উপজেলার চাঁদপাই ও চিলা ইউনিয়নের দশ গ্রামের প্রায় দশ হাজার মানুষের। সুপেয় পানির জন্য দশটি গ্রামের মানুষকে একটি ছোট্ট পুকুরের পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। আরও জানা গেছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত উপজেলায় বৃষ্টি না হওয়ায় অধিকাংশ পুকুরের পানি শুকিয়ে গিয়েছে। এ অবস্থায় দূর–দূরান্তর পুকুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে গ্রামবাসীকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের শিউলী বেগম বলেন, ‘চার মাইল হেঁটে তুষার বাবুর পুকুর থেকে এক কলস পানি নিয়ে আসি। যেতে-আসতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। তিনজন মানুষের সংসারে রান্না করতে ও খেতে চাইর কলস পানি লাগে। সকালে দুবার পানি আনতে যাই। বিকেলে দুবার যাই। সারা দিনে পানির জন্য চার ঘণ্টা সময় যায়, কষ্টের কথা আর কি বলব। এই কয় ঘণ্টা কারওর বাড়িতে কাজ করলেও দুইশত টাকা পেতাম। পানি ছাড়া যদি বাঁচা যেত তাহলে এত কষ্ট করা লাগত না।

সোনাইলতলা ইউনিয়নের জয় খাঁ গ্রামের আ. কালাম বলেন, ‘এ গ্রামের একমাত্র মিষ্টি পানির পুকুরের পানি খেয়ে বেঁচে রয়েছেন উপজেলার ৪ ইউনিয়নের দশ গ্রামের প্রায় বিশ হাজার মানুষ। প্রতিদিন বহু দূর-দুরান্ত থেকে নারী ও পুরুষ খাওয়ার পানি সংগ্রহের জন্য এ পুকুরে আসেন। পানির জন্য এ হাহাকার চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।’

চিলা গ্রামের অসীম মণ্ডল জানান, ‘ক্ষেত্র বিশেষে ১০–১৫ কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে এক কলস খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এ কাজ বিশেষত নারীরা করে থাকেন। পার্শ্ববর্তী রামপাল থানার একটি পুকুরের পানির ওপর চার গ্রামের মানুষকে নির্ভর করতে হচ্ছে। আর যাঁরা ভ্যানওয়ালাদের কাছ থেকে পানি কিনছেন তাঁদের ২৫ লিটার পানি ২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্য এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।

মিঠেখালী গ্রামের ৮০ বছর বয়স্ক প্রবীণ আ. কাদের বলেন, ‘সেই ব্রিটিশ আমল থেকে পানির কষ্ট দেখে আসছি। তারপর পাকিস্তান আমল গেল, বাংলাদেশ স্বাধীন হলো, কত সরকার ক্ষমতায় আসল-গেল, কিন্তু আমাদের পানির কষ্ট দূর হলো না। শেখ হাসিনা যদি আমাদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য কিছু করত তাহলে আমরা বেঁচে যেতাম।’

উপজেলা প্রশাসন পানির কষ্ট দূর করার জন্য কি করছে এর জবাবে মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের এ এলাকায় পুকুর খনন বা সংস্কারের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আমরা উপজেলায় বেশ কয়েকটি মিষ্টি পানির পুকুর খনন করেছি, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর উপজেলাবাসীকে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য পানির ট্যাংক দেয়। উপজেলার সবাইকে যদি ট্যাংক দেওয়া হতো তাহলে কিছুটা হলেও উপকার হতো। সরকারের উচিত, লবণপানি অধ্যুষিত মোংলার জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

সুপেয় পানির জন্য হাহাকার

আপডেট টাইম : 09:46:51 pm, Sunday, 10 April 2022

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় হাতে গোনা কয়েকটি সুপেয় পানির পুকুর রয়েছে। এসব পুকুর থেকেই খাবার পানি সংগ্রহ করেন উপজেলাবাসী। সব থেকে বেশি দুর্দশা উপজেলার চাঁদপাই ও চিলা ইউনিয়নের দশ গ্রামের প্রায় দশ হাজার মানুষের। সুপেয় পানির জন্য দশটি গ্রামের মানুষকে একটি ছোট্ট পুকুরের পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। আরও জানা গেছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত উপজেলায় বৃষ্টি না হওয়ায় অধিকাংশ পুকুরের পানি শুকিয়ে গিয়েছে। এ অবস্থায় দূর–দূরান্তর পুকুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে গ্রামবাসীকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের শিউলী বেগম বলেন, ‘চার মাইল হেঁটে তুষার বাবুর পুকুর থেকে এক কলস পানি নিয়ে আসি। যেতে-আসতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। তিনজন মানুষের সংসারে রান্না করতে ও খেতে চাইর কলস পানি লাগে। সকালে দুবার পানি আনতে যাই। বিকেলে দুবার যাই। সারা দিনে পানির জন্য চার ঘণ্টা সময় যায়, কষ্টের কথা আর কি বলব। এই কয় ঘণ্টা কারওর বাড়িতে কাজ করলেও দুইশত টাকা পেতাম। পানি ছাড়া যদি বাঁচা যেত তাহলে এত কষ্ট করা লাগত না।

সোনাইলতলা ইউনিয়নের জয় খাঁ গ্রামের আ. কালাম বলেন, ‘এ গ্রামের একমাত্র মিষ্টি পানির পুকুরের পানি খেয়ে বেঁচে রয়েছেন উপজেলার ৪ ইউনিয়নের দশ গ্রামের প্রায় বিশ হাজার মানুষ। প্রতিদিন বহু দূর-দুরান্ত থেকে নারী ও পুরুষ খাওয়ার পানি সংগ্রহের জন্য এ পুকুরে আসেন। পানির জন্য এ হাহাকার চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।’

চিলা গ্রামের অসীম মণ্ডল জানান, ‘ক্ষেত্র বিশেষে ১০–১৫ কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে এক কলস খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এ কাজ বিশেষত নারীরা করে থাকেন। পার্শ্ববর্তী রামপাল থানার একটি পুকুরের পানির ওপর চার গ্রামের মানুষকে নির্ভর করতে হচ্ছে। আর যাঁরা ভ্যানওয়ালাদের কাছ থেকে পানি কিনছেন তাঁদের ২৫ লিটার পানি ২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্য এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।

মিঠেখালী গ্রামের ৮০ বছর বয়স্ক প্রবীণ আ. কাদের বলেন, ‘সেই ব্রিটিশ আমল থেকে পানির কষ্ট দেখে আসছি। তারপর পাকিস্তান আমল গেল, বাংলাদেশ স্বাধীন হলো, কত সরকার ক্ষমতায় আসল-গেল, কিন্তু আমাদের পানির কষ্ট দূর হলো না। শেখ হাসিনা যদি আমাদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য কিছু করত তাহলে আমরা বেঁচে যেতাম।’

উপজেলা প্রশাসন পানির কষ্ট দূর করার জন্য কি করছে এর জবাবে মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের এ এলাকায় পুকুর খনন বা সংস্কারের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আমরা উপজেলায় বেশ কয়েকটি মিষ্টি পানির পুকুর খনন করেছি, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর উপজেলাবাসীকে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য পানির ট্যাংক দেয়। উপজেলার সবাইকে যদি ট্যাংক দেওয়া হতো তাহলে কিছুটা হলেও উপকার হতো। সরকারের উচিত, লবণপানি অধ্যুষিত মোংলার জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া।’