Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সড়ক মন্ত্রীর উপহার বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেক বিতরণ বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই

সুপেয় পানির জন্য হাহাকার

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 09:46:51 pm, Sunday, 10 April 2022
  • 133 বার

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় হাতে গোনা কয়েকটি সুপেয় পানির পুকুর রয়েছে। এসব পুকুর থেকেই খাবার পানি সংগ্রহ করেন উপজেলাবাসী। সব থেকে বেশি দুর্দশা উপজেলার চাঁদপাই ও চিলা ইউনিয়নের দশ গ্রামের প্রায় দশ হাজার মানুষের। সুপেয় পানির জন্য দশটি গ্রামের মানুষকে একটি ছোট্ট পুকুরের পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। আরও জানা গেছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত উপজেলায় বৃষ্টি না হওয়ায় অধিকাংশ পুকুরের পানি শুকিয়ে গিয়েছে। এ অবস্থায় দূর–দূরান্তর পুকুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে গ্রামবাসীকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের শিউলী বেগম বলেন, ‘চার মাইল হেঁটে তুষার বাবুর পুকুর থেকে এক কলস পানি নিয়ে আসি। যেতে-আসতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। তিনজন মানুষের সংসারে রান্না করতে ও খেতে চাইর কলস পানি লাগে। সকালে দুবার পানি আনতে যাই। বিকেলে দুবার যাই। সারা দিনে পানির জন্য চার ঘণ্টা সময় যায়, কষ্টের কথা আর কি বলব। এই কয় ঘণ্টা কারওর বাড়িতে কাজ করলেও দুইশত টাকা পেতাম। পানি ছাড়া যদি বাঁচা যেত তাহলে এত কষ্ট করা লাগত না।

সোনাইলতলা ইউনিয়নের জয় খাঁ গ্রামের আ. কালাম বলেন, ‘এ গ্রামের একমাত্র মিষ্টি পানির পুকুরের পানি খেয়ে বেঁচে রয়েছেন উপজেলার ৪ ইউনিয়নের দশ গ্রামের প্রায় বিশ হাজার মানুষ। প্রতিদিন বহু দূর-দুরান্ত থেকে নারী ও পুরুষ খাওয়ার পানি সংগ্রহের জন্য এ পুকুরে আসেন। পানির জন্য এ হাহাকার চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।’

চিলা গ্রামের অসীম মণ্ডল জানান, ‘ক্ষেত্র বিশেষে ১০–১৫ কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে এক কলস খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এ কাজ বিশেষত নারীরা করে থাকেন। পার্শ্ববর্তী রামপাল থানার একটি পুকুরের পানির ওপর চার গ্রামের মানুষকে নির্ভর করতে হচ্ছে। আর যাঁরা ভ্যানওয়ালাদের কাছ থেকে পানি কিনছেন তাঁদের ২৫ লিটার পানি ২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্য এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।

মিঠেখালী গ্রামের ৮০ বছর বয়স্ক প্রবীণ আ. কাদের বলেন, ‘সেই ব্রিটিশ আমল থেকে পানির কষ্ট দেখে আসছি। তারপর পাকিস্তান আমল গেল, বাংলাদেশ স্বাধীন হলো, কত সরকার ক্ষমতায় আসল-গেল, কিন্তু আমাদের পানির কষ্ট দূর হলো না। শেখ হাসিনা যদি আমাদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য কিছু করত তাহলে আমরা বেঁচে যেতাম।’

উপজেলা প্রশাসন পানির কষ্ট দূর করার জন্য কি করছে এর জবাবে মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের এ এলাকায় পুকুর খনন বা সংস্কারের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আমরা উপজেলায় বেশ কয়েকটি মিষ্টি পানির পুকুর খনন করেছি, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর উপজেলাবাসীকে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য পানির ট্যাংক দেয়। উপজেলার সবাইকে যদি ট্যাংক দেওয়া হতো তাহলে কিছুটা হলেও উপকার হতো। সরকারের উচিত, লবণপানি অধ্যুষিত মোংলার জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার

সুপেয় পানির জন্য হাহাকার

আপডেট টাইম : 09:46:51 pm, Sunday, 10 April 2022

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় হাতে গোনা কয়েকটি সুপেয় পানির পুকুর রয়েছে। এসব পুকুর থেকেই খাবার পানি সংগ্রহ করেন উপজেলাবাসী। সব থেকে বেশি দুর্দশা উপজেলার চাঁদপাই ও চিলা ইউনিয়নের দশ গ্রামের প্রায় দশ হাজার মানুষের। সুপেয় পানির জন্য দশটি গ্রামের মানুষকে একটি ছোট্ট পুকুরের পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। আরও জানা গেছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত উপজেলায় বৃষ্টি না হওয়ায় অধিকাংশ পুকুরের পানি শুকিয়ে গিয়েছে। এ অবস্থায় দূর–দূরান্তর পুকুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে গ্রামবাসীকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের শিউলী বেগম বলেন, ‘চার মাইল হেঁটে তুষার বাবুর পুকুর থেকে এক কলস পানি নিয়ে আসি। যেতে-আসতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। তিনজন মানুষের সংসারে রান্না করতে ও খেতে চাইর কলস পানি লাগে। সকালে দুবার পানি আনতে যাই। বিকেলে দুবার যাই। সারা দিনে পানির জন্য চার ঘণ্টা সময় যায়, কষ্টের কথা আর কি বলব। এই কয় ঘণ্টা কারওর বাড়িতে কাজ করলেও দুইশত টাকা পেতাম। পানি ছাড়া যদি বাঁচা যেত তাহলে এত কষ্ট করা লাগত না।

সোনাইলতলা ইউনিয়নের জয় খাঁ গ্রামের আ. কালাম বলেন, ‘এ গ্রামের একমাত্র মিষ্টি পানির পুকুরের পানি খেয়ে বেঁচে রয়েছেন উপজেলার ৪ ইউনিয়নের দশ গ্রামের প্রায় বিশ হাজার মানুষ। প্রতিদিন বহু দূর-দুরান্ত থেকে নারী ও পুরুষ খাওয়ার পানি সংগ্রহের জন্য এ পুকুরে আসেন। পানির জন্য এ হাহাকার চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।’

চিলা গ্রামের অসীম মণ্ডল জানান, ‘ক্ষেত্র বিশেষে ১০–১৫ কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে এক কলস খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এ কাজ বিশেষত নারীরা করে থাকেন। পার্শ্ববর্তী রামপাল থানার একটি পুকুরের পানির ওপর চার গ্রামের মানুষকে নির্ভর করতে হচ্ছে। আর যাঁরা ভ্যানওয়ালাদের কাছ থেকে পানি কিনছেন তাঁদের ২৫ লিটার পানি ২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। গ্রামের দরিদ্র মানুষের জন্য এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।

মিঠেখালী গ্রামের ৮০ বছর বয়স্ক প্রবীণ আ. কাদের বলেন, ‘সেই ব্রিটিশ আমল থেকে পানির কষ্ট দেখে আসছি। তারপর পাকিস্তান আমল গেল, বাংলাদেশ স্বাধীন হলো, কত সরকার ক্ষমতায় আসল-গেল, কিন্তু আমাদের পানির কষ্ট দূর হলো না। শেখ হাসিনা যদি আমাদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য কিছু করত তাহলে আমরা বেঁচে যেতাম।’

উপজেলা প্রশাসন পানির কষ্ট দূর করার জন্য কি করছে এর জবাবে মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের এ এলাকায় পুকুর খনন বা সংস্কারের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আমরা উপজেলায় বেশ কয়েকটি মিষ্টি পানির পুকুর খনন করেছি, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর উপজেলাবাসীকে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য পানির ট্যাংক দেয়। উপজেলার সবাইকে যদি ট্যাংক দেওয়া হতো তাহলে কিছুটা হলেও উপকার হতো। সরকারের উচিত, লবণপানি অধ্যুষিত মোংলার জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া।’