Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

হঠাৎ বেড়েছে ডিমের দাম

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 11:18:58 am, Monday, 16 May 2022
  • 121 বার

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাজারে হঠাৎ খুচরা পর্যায়ে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১২০ টাকা, যা দুদিন আগেও ১১০ টাকা ছিল। পাইকারি ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে ডিমের সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেড়েছে। বৃষ্টি হলে বাজারে ডিমের চাহিদাও বাড়ে বলে জানান তারা। এদিকে নিত্যদিনের খাদ্যতালিকার অন্যতম অনুষঙ্গ ডিমের দাম বাড়ায় অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারা। রামপুরা বাজারে ফরিদা ইয়াসমিন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘কম দামে এটিই খাওয়া যায়। তাও আবার বেড়ে গেল।’এদিকে মুরগির ডিমের দাম বাড়ায় অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে হাঁসের ডিমের দামও। বাজারে হাঁসের একেকটি ডিম বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকায়। প্রতি হালি ৬৫ টাকা আর ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রতিদিন মুরগি, হাঁস, কবুতর ও কোয়েলের প্রায় পৌনে পাঁচ কোটি ডিম উৎপাদন হয়। পৃথক হিসাবে, কেবল মুরগির ডিম উৎপাদন হয় সাড়ে তিন থেকে চার কোটি। হাঁসের ডিমের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে করোনার পর থেকে এ উৎপাদন অনেক কমেছে বলে দারি খামারিদের। তারা বলছেন, করোনার সময় লোকসানে প্রচুর খামার বন্ধ হয়ে গেছে।

মালিবাগ কাঁচাবাজারের বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, দুদিনে দাম বেড়ে গেল ডিমের। পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা কী করবো? পাইকারি বিক্রেতার একদাম-এককথা। নিলে নেন, না নিলে নাই।

সেগুনবাগিচা বাজারে দীর্ঘদিন ডিম বিক্রি করেন সালাম মিয়া। তিনি বলেন, সাধারণত শীতকালে ডিমের চাহিদা বাড়ায় দাম বাড়ে। এ কারণেই কিন্তু এখন দাম বাড়াটা স্বাভাবিক নয়। এ সময় সাধারণত পর্যাপ্ত ডিম থাকে।

অন্যদিকে করোনাকালে বিধিনিষেধের ফলে একদিকে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, দিনমজুর ও গরিব মানুষের বড় একটি অংশের আয় কমেছে। চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস-পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীন। এর মধ্যে ডিমের মূল্যবৃদ্ধি প্রভাব ফেলছে দরিদ্র মানুষের জীবনে।

এদিকে তেজগাঁও ডিমের আড়তের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বৃষ্টি হলে ডিমের চাহিদা বাড়ে। মানুষ বাজারে কম যায়। ডিম খায় বেশি। এখন চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম। সে কারণে দাম বেশি।

এখন ডিমের দাম কেন বেড়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ এগ প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহের আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, দেশের খামারিরা চাহিদা অনুযায়ী ডিম উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে। কিন্তু এ খাতটি নানা সংকটে ভুগছে। বর্তমানে করোনা এ খাতকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অনেক খামার বন্ধ। সে কারণে চাহিদা অনুয়ায়ী উৎপাদন হচ্ছে না।

ডিমের দাম বাড়ার বিষয়টি দেখা গেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনন্দিন বাজরের চিত্রেও। সংস্থাটির তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ১২ শতাংশ দাম বেড়েছে ডিমের। বর্তমানে সর্বনিম্ন ১০৫ থেকে সর্বোচ্চ ১২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ডিমের ডজন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

হঠাৎ বেড়েছে ডিমের দাম

আপডেট টাইম : 11:18:58 am, Monday, 16 May 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাজারে হঠাৎ খুচরা পর্যায়ে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১২০ টাকা, যা দুদিন আগেও ১১০ টাকা ছিল। পাইকারি ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে ডিমের সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেড়েছে। বৃষ্টি হলে বাজারে ডিমের চাহিদাও বাড়ে বলে জানান তারা। এদিকে নিত্যদিনের খাদ্যতালিকার অন্যতম অনুষঙ্গ ডিমের দাম বাড়ায় অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারা। রামপুরা বাজারে ফরিদা ইয়াসমিন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘কম দামে এটিই খাওয়া যায়। তাও আবার বেড়ে গেল।’এদিকে মুরগির ডিমের দাম বাড়ায় অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে হাঁসের ডিমের দামও। বাজারে হাঁসের একেকটি ডিম বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১৫ থেকে ১৬ টাকায়। প্রতি হালি ৬৫ টাকা আর ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে প্রতিদিন মুরগি, হাঁস, কবুতর ও কোয়েলের প্রায় পৌনে পাঁচ কোটি ডিম উৎপাদন হয়। পৃথক হিসাবে, কেবল মুরগির ডিম উৎপাদন হয় সাড়ে তিন থেকে চার কোটি। হাঁসের ডিমের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে করোনার পর থেকে এ উৎপাদন অনেক কমেছে বলে দারি খামারিদের। তারা বলছেন, করোনার সময় লোকসানে প্রচুর খামার বন্ধ হয়ে গেছে।

মালিবাগ কাঁচাবাজারের বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেন, দুদিনে দাম বেড়ে গেল ডিমের। পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা কী করবো? পাইকারি বিক্রেতার একদাম-এককথা। নিলে নেন, না নিলে নাই।

সেগুনবাগিচা বাজারে দীর্ঘদিন ডিম বিক্রি করেন সালাম মিয়া। তিনি বলেন, সাধারণত শীতকালে ডিমের চাহিদা বাড়ায় দাম বাড়ে। এ কারণেই কিন্তু এখন দাম বাড়াটা স্বাভাবিক নয়। এ সময় সাধারণত পর্যাপ্ত ডিম থাকে।

অন্যদিকে করোনাকালে বিধিনিষেধের ফলে একদিকে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, দিনমজুর ও গরিব মানুষের বড় একটি অংশের আয় কমেছে। চাল, ভোজ্যতেল, গ্যাস-পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীন। এর মধ্যে ডিমের মূল্যবৃদ্ধি প্রভাব ফেলছে দরিদ্র মানুষের জীবনে।

এদিকে তেজগাঁও ডিমের আড়তের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, বৃষ্টি হলে ডিমের চাহিদা বাড়ে। মানুষ বাজারে কম যায়। ডিম খায় বেশি। এখন চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম। সে কারণে দাম বেশি।

এখন ডিমের দাম কেন বেড়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ এগ প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহের আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, দেশের খামারিরা চাহিদা অনুযায়ী ডিম উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে। কিন্তু এ খাতটি নানা সংকটে ভুগছে। বর্তমানে করোনা এ খাতকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অনেক খামার বন্ধ। সে কারণে চাহিদা অনুয়ায়ী উৎপাদন হচ্ছে না।

ডিমের দাম বাড়ার বিষয়টি দেখা গেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনন্দিন বাজরের চিত্রেও। সংস্থাটির তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ১২ শতাংশ দাম বেড়েছে ডিমের। বর্তমানে সর্বনিম্ন ১০৫ থেকে সর্বোচ্চ ১২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ডিমের ডজন।