Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

২৩ বছর দায়িত্ব পালনের পর আক্কাস আলী জানলেন তাঁর চাকুরী নেই

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 06:41:21 pm, Wednesday, 21 December 2022
  • 133 বার

আমার ডেক্স:প্রতিবন্ধী আক্কাস আলী গাজী (৫৩)। শেষ সম্বল ৩০ শতক জায়গা ও গাছপালা বিক্রি করে সব টাকা তুলে দেন প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজান আলীর হাতে। যোগ্যতা ও টাকার বিনিময়ে পিয়ন পদে নিয়োগ পান তিনি। কিন্তু ২৩ বছর বিনা বেতনে শ্রম দেওয়ার পর আক্কাস আলী জানলেন তাঁর চাকুরী নেই। প্রধান শিক্ষকের সাফ কথা হাজিরা খাতায় আর সই করা যাবে না। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই পদে অন্য লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। এমনটাই জানালেন মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কচুড়িয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মোঃ আইয়ুব আলী শেখ ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য মোঃ মুজিবুর রহমান।

তাঁরা আরও জানান, কচুড়িয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৬ সালে স্থাপিত হয়। বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগের জন্য ২৫/০১/১৯৯৯ তারিখ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তি দেখে আক্কাস আলী গাজী চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির আবেদন করেন। নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। ০৭/০৩/১৯৯৯ তারিখ ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজান আলী ০৯/০৩/১৯৯৯ তারিখ আক্কাস আলী গাজীকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেন। সেই মোতাবেক তিনি ১০/০৩/১৯৯৯ তারিখে প্রধান শিক্ষকের নিকট যোগদানপত্র দাখিল করেন।

সেই থেকে তিনি বিনা বেতনে দীর্ঘ ২৩ বছর মাধ্যমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর (পিয়ন) কাজ করে আসছেন বিদ্যালয়টিতে। সম্প্রতি বিদ্যালয়টির মাধ্যমিক স্তর এমপিও ভূক্তি হয়েছে। এই এমপিও ভূক্তির পর প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজান আলী আক্কাস আলী গাজীকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর চাকুরী নেই। তিনি আর হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে পারবেন না। প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজান আলী ওই পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় আবারও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন।

এ ঘটনায় নিয়োগ ঠেকাতে আক্কাস আলী গাজী প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজান আলী,ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহা পরিচালকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সহকারি জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

আক্কাস আলী গাজীর আইনজীবী বলাই চাঁদ বিশ্বাস বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।’ মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আক্কাস আলী গাজী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার সহায় সম্বল খুঁইয়ে ২৩ বছর শ্রম দেওয়ার পর জানলাম চাকুরী নেই। এখন প্রধান শিক্ষক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আমার পদে অন্য লোককে চাকুরী দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। আমি শাররিক প্রতিবন্ধী, ডান হাত ভাঙ্গা। এখন চাকুরী হারালে ছেলে মেয়েদের নিয়ে আমার পথে বসতে হবে।’

কচুড়িয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজান আলী বলেন, ‘স্কুল প্রতিষ্ঠায় আক্কাস আলী গাজীর অবদান অস্বীকার করি না। তাঁর টাকা দিয়ে স্কুলের জমির দলিল করা হয়েছে। তাঁর কাগজপত্রে জটিলতা আছে। তাই তাকে ওই পদে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।’

চিতলমারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. কামরুননেছা বলেন, ‘আদালতের একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছি। প্রধান শিক্ষককে জবাব দিতে বলেছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা বলেন, ‘এ ধরণের কোন ঘটনা আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

২৩ বছর দায়িত্ব পালনের পর আক্কাস আলী জানলেন তাঁর চাকুরী নেই

আপডেট টাইম : 06:41:21 pm, Wednesday, 21 December 2022

আমার ডেক্স:প্রতিবন্ধী আক্কাস আলী গাজী (৫৩)। শেষ সম্বল ৩০ শতক জায়গা ও গাছপালা বিক্রি করে সব টাকা তুলে দেন প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজান আলীর হাতে। যোগ্যতা ও টাকার বিনিময়ে পিয়ন পদে নিয়োগ পান তিনি। কিন্তু ২৩ বছর বিনা বেতনে শ্রম দেওয়ার পর আক্কাস আলী জানলেন তাঁর চাকুরী নেই। প্রধান শিক্ষকের সাফ কথা হাজিরা খাতায় আর সই করা যাবে না। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই পদে অন্য লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। এমনটাই জানালেন মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার কচুড়িয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মোঃ আইয়ুব আলী শেখ ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য মোঃ মুজিবুর রহমান।

তাঁরা আরও জানান, কচুড়িয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৬ সালে স্থাপিত হয়। বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগের জন্য ২৫/০১/১৯৯৯ তারিখ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তি দেখে আক্কাস আলী গাজী চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির আবেদন করেন। নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। ০৭/০৩/১৯৯৯ তারিখ ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজান আলী ০৯/০৩/১৯৯৯ তারিখ আক্কাস আলী গাজীকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেন। সেই মোতাবেক তিনি ১০/০৩/১৯৯৯ তারিখে প্রধান শিক্ষকের নিকট যোগদানপত্র দাখিল করেন।

সেই থেকে তিনি বিনা বেতনে দীর্ঘ ২৩ বছর মাধ্যমিক স্তরের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর (পিয়ন) কাজ করে আসছেন বিদ্যালয়টিতে। সম্প্রতি বিদ্যালয়টির মাধ্যমিক স্তর এমপিও ভূক্তি হয়েছে। এই এমপিও ভূক্তির পর প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজান আলী আক্কাস আলী গাজীকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর চাকুরী নেই। তিনি আর হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে পারবেন না। প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজান আলী ওই পদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় আবারও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন।

এ ঘটনায় নিয়োগ ঠেকাতে আক্কাস আলী গাজী প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজান আলী,ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহা পরিচালকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সহকারি জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

আক্কাস আলী গাজীর আইনজীবী বলাই চাঁদ বিশ্বাস বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।’ মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আক্কাস আলী গাজী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার সহায় সম্বল খুঁইয়ে ২৩ বছর শ্রম দেওয়ার পর জানলাম চাকুরী নেই। এখন প্রধান শিক্ষক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আমার পদে অন্য লোককে চাকুরী দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। আমি শাররিক প্রতিবন্ধী, ডান হাত ভাঙ্গা। এখন চাকুরী হারালে ছেলে মেয়েদের নিয়ে আমার পথে বসতে হবে।’

কচুড়িয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজান আলী বলেন, ‘স্কুল প্রতিষ্ঠায় আক্কাস আলী গাজীর অবদান অস্বীকার করি না। তাঁর টাকা দিয়ে স্কুলের জমির দলিল করা হয়েছে। তাঁর কাগজপত্রে জটিলতা আছে। তাই তাকে ওই পদে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।’

চিতলমারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. কামরুননেছা বলেন, ‘আদালতের একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছি। প্রধান শিক্ষককে জবাব দিতে বলেছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইয়েদা ফয়জুন্নেছা বলেন, ‘এ ধরণের কোন ঘটনা আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’