Dhaka , Friday, 18 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

৬ মাসেও শিশু মীমের অভিভাবকের খোজ মেলেনি

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 06:04:14 pm, Tuesday, 19 April 2022
  • 148 বার

স্টাফ রিপোটার, বাগেরহাট: বাগেরহাটে ৬ মাসেও কুড়িয়ে পাওয়া শিশু মীমের অভিভাবকদের খোজ পায়নি সমাজসেবা অধিদপ্তর। বৈধ অভিভাবকের অপেক্ষায় বাগেরহাট সরকারি শিশু পরিবারে দিন কাটছে শিশু মীমের। থানা পুলিশ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনেক চেষ্টায়ও মীমের অভিভাবকদের খোজ মিলছে না। মীমকে কি করবে এই নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানটিও রয়েছে বিপাকে।

শুধু মীম নয়, বাগেরহাট সদর উপজেলার পাটরপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়ায় নবজাতক ইমারও কোন অভিভাবক পায়নি সমাজসেবা অধিদপ্তর। অভিভাবক পাওয়া যায়নি বাগেরহাট শহরের দক্ষিন হাড়িখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে উদ্ধার হওয়ো বাক প্রতিবন্ধী ছেলে শিশুর। দুইজনই এখন সমাজ সেবা অধিদপ্তরের তত্ত¡াবধায়নে খুলনা ছোটমনি নিবাসে রয়েছে। তবে সমাজ সেবা অধিদপ্তর বলছে কোন নিঃসন্তান সক্ষম দম্পতি স্বইচ্ছায় এই শিশুদের নিতে চাইলে আইনি প্রক্রিয়া মেনে দত্তক প্রদান করা হবে।


সমাজ সেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে বাগেরহাট শহরের মুক্তি ক্লিনিকের সামনে ৭ বছর বয়সী মীম নামের একটি শিশুকে উদ্ধার করে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ। পরের দিন ১৪ অক্টোবর শিশু মীমকে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের শিশু পরিবারে হস্তান্তর করে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ। পরে সমাজ সেবা অধিদপ্তর ও মডেল থানা পুলিশ নানা চেষ্টায়ও মীমের অভিভাবককে খুজে পায়নি। বাড়ি জানতে চাইলে মীম শুধু বলে, আমার বাড়ি সিলেট। মীমের গায়ের রং হালকা ফর্সা এবং স্বাস্থ্য ভাল। তবে বাবা-মায়ের সম্পর্কে সে কিছুই বলতে পারে না।
এদিকে ২০ মার্চ দুপুরে বাগেরহাট শহরের দক্ষিন হাড়িখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ৩ বছর বয়সী বাক প্রতিবন্ধী একটি ছেলে শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে এই শিশুটিকেও সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন বোরকা পরা এক নারী শিশুটিকে স্কুলের সামনে রেখে গেছিল। প্রায় এক মাস হলে বাক প্রতিবন্ধী শিশুর অভিভাবক হিসেবে কেউ আসেনি সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কাছে। আদও কেউ আসবে কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না।
গেল ২ এপ্রিল বাগেরহাট সদর উপজেলার পাটরপাড়া এলাকার আজমুল কবির ইমামুল দম্পতির কাছে পানি খাওয়ার কথা বলে এক নবজাতককে রেখে যায়। আজমুল কবির দম্পতি একদিন বয়সী ওই কন্যা শিশুর নাম রাখেন ইমা। পরের দিন ৩ এপ্রিল আজমুল কবির ইমামুল দম্পতি শিশুটিকে সদর থানায় হস্তান্তর করে। শিশুটিকে গ্রহন করে শিশুটিকে খুলনার ছোটমনি নিবাসে পাঠায় সমাজসেবা অধিদপ্তর। ১৫ দিনেও শিশুটির দাবি নিয়ে কেউ আসেনি সমাজসেবো অধিদপ্তরের কাছে। নিঃসন্তান দম্পতিরাও তেমন আবেদন করেনি শিশু মীমকে লালন-পালনের জন্য।
সমাজ সেবা অধিদপ্তর, বাগেরহাটের প্রবেশন অফিসার সোহেল পারভেজ বলেন, শিশু মীম এখন আমাদের তত্ত¡াবধায়নে সরকারি শিশু পরিবারে রয়েছে। নবজাতক ইমা ও বাক প্রতিবন্ধী শিশুটি ছোটমনি নিবাসে রয়েছে। যদি কোন নিঃসন্তান দম্পতি এই শিশুদের নিতে চায়, তাহলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আমরা তাদের অনুকূলে এই শিশুদের লালন পালন করতে দিব। সক্ষম নিঃসন্তান দম্পতিদের এই শিশুদের লালন-পালনের জন্য আবেদন করার আহবান জানান সমাজ সেবার এই কর্মকর্তা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

৬ মাসেও শিশু মীমের অভিভাবকের খোজ মেলেনি

আপডেট টাইম : 06:04:14 pm, Tuesday, 19 April 2022

স্টাফ রিপোটার, বাগেরহাট: বাগেরহাটে ৬ মাসেও কুড়িয়ে পাওয়া শিশু মীমের অভিভাবকদের খোজ পায়নি সমাজসেবা অধিদপ্তর। বৈধ অভিভাবকের অপেক্ষায় বাগেরহাট সরকারি শিশু পরিবারে দিন কাটছে শিশু মীমের। থানা পুলিশ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনেক চেষ্টায়ও মীমের অভিভাবকদের খোজ মিলছে না। মীমকে কি করবে এই নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানটিও রয়েছে বিপাকে।

শুধু মীম নয়, বাগেরহাট সদর উপজেলার পাটরপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়ায় নবজাতক ইমারও কোন অভিভাবক পায়নি সমাজসেবা অধিদপ্তর। অভিভাবক পাওয়া যায়নি বাগেরহাট শহরের দক্ষিন হাড়িখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে উদ্ধার হওয়ো বাক প্রতিবন্ধী ছেলে শিশুর। দুইজনই এখন সমাজ সেবা অধিদপ্তরের তত্ত¡াবধায়নে খুলনা ছোটমনি নিবাসে রয়েছে। তবে সমাজ সেবা অধিদপ্তর বলছে কোন নিঃসন্তান সক্ষম দম্পতি স্বইচ্ছায় এই শিশুদের নিতে চাইলে আইনি প্রক্রিয়া মেনে দত্তক প্রদান করা হবে।


সমাজ সেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে বাগেরহাট শহরের মুক্তি ক্লিনিকের সামনে ৭ বছর বয়সী মীম নামের একটি শিশুকে উদ্ধার করে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ। পরের দিন ১৪ অক্টোবর শিশু মীমকে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের শিশু পরিবারে হস্তান্তর করে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ। পরে সমাজ সেবা অধিদপ্তর ও মডেল থানা পুলিশ নানা চেষ্টায়ও মীমের অভিভাবককে খুজে পায়নি। বাড়ি জানতে চাইলে মীম শুধু বলে, আমার বাড়ি সিলেট। মীমের গায়ের রং হালকা ফর্সা এবং স্বাস্থ্য ভাল। তবে বাবা-মায়ের সম্পর্কে সে কিছুই বলতে পারে না।
এদিকে ২০ মার্চ দুপুরে বাগেরহাট শহরের দক্ষিন হাড়িখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ৩ বছর বয়সী বাক প্রতিবন্ধী একটি ছেলে শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে এই শিশুটিকেও সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন বোরকা পরা এক নারী শিশুটিকে স্কুলের সামনে রেখে গেছিল। প্রায় এক মাস হলে বাক প্রতিবন্ধী শিশুর অভিভাবক হিসেবে কেউ আসেনি সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কাছে। আদও কেউ আসবে কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না।
গেল ২ এপ্রিল বাগেরহাট সদর উপজেলার পাটরপাড়া এলাকার আজমুল কবির ইমামুল দম্পতির কাছে পানি খাওয়ার কথা বলে এক নবজাতককে রেখে যায়। আজমুল কবির দম্পতি একদিন বয়সী ওই কন্যা শিশুর নাম রাখেন ইমা। পরের দিন ৩ এপ্রিল আজমুল কবির ইমামুল দম্পতি শিশুটিকে সদর থানায় হস্তান্তর করে। শিশুটিকে গ্রহন করে শিশুটিকে খুলনার ছোটমনি নিবাসে পাঠায় সমাজসেবা অধিদপ্তর। ১৫ দিনেও শিশুটির দাবি নিয়ে কেউ আসেনি সমাজসেবো অধিদপ্তরের কাছে। নিঃসন্তান দম্পতিরাও তেমন আবেদন করেনি শিশু মীমকে লালন-পালনের জন্য।
সমাজ সেবা অধিদপ্তর, বাগেরহাটের প্রবেশন অফিসার সোহেল পারভেজ বলেন, শিশু মীম এখন আমাদের তত্ত¡াবধায়নে সরকারি শিশু পরিবারে রয়েছে। নবজাতক ইমা ও বাক প্রতিবন্ধী শিশুটি ছোটমনি নিবাসে রয়েছে। যদি কোন নিঃসন্তান দম্পতি এই শিশুদের নিতে চায়, তাহলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আমরা তাদের অনুকূলে এই শিশুদের লালন পালন করতে দিব। সক্ষম নিঃসন্তান দম্পতিদের এই শিশুদের লালন-পালনের জন্য আবেদন করার আহবান জানান সমাজ সেবার এই কর্মকর্তা।