Dhaka , Tuesday, 3 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সড়ক মন্ত্রীর উপহার বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেক বিতরণ বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই

বাগেরহাট শহরে জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গু-জ্বর-চর্মরোগ বৃদ্ধির শঙ্কা

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 08:42:18 pm, Sunday, 13 July 2025
  • 122 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বাগেরহাট শহর জুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। শহরের প্রধান ও উপসড়কগুলোতে পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগ ব্যহত হচ্ছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার সাথে সাথে পানি কমে যাবে, বাগেরহাট শহরে সেরকম পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা নেই। যার ফলে শহরের বেশির ভাগ এলাকার অলি-গলিতে পানি থাকবে মাসের পর মাস। পানি নিস্কাশনের জন্য করা ড্রেণ ও নালায় জমে থাকা পানিতে জন্ম নেবে ডেঙ্গু মশা। যার ফলে বৃষ্টির পরে শহর জুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

বাগেরহাট শহরের রেল রোডের দুইপাশ, খানজাহান আলী রোড, মাছ বাজার, পুরাতন কোর্ট চত্বর, মল্লিকবাড়ির মোড়, বাসাবাটি, সাহাপাড়া, নাগেরবাজার, পিটিআইমোড়, জাহানাবাদ স্কুলের গলি, সোনাতলাসহ অন্তত ৩০টি স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা জন্মে ডেঙ্গু ছড়ানোর পাশাপাশি, জ্বর, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, পেটের পিরাসহ নানা রোগ হতে পারে শহরবাসীর। সব থেকে বেশি ঝুকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা শামীমা বেগম বলেন, বাগেরহাট শহর এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে। পুরো শহরজুড়ে পানি। আর এই পানি খুব সহজে নামবে না।

শহরের বাসিন্দা গৃহবধূ জেসমিন আক্তার বলেন, বাড়ির ভেতরে পানি উঠে গেছে। চুলায় আগুন ধরানো যাচ্ছে না। ছোট ছেলেটা পানিতে সর্দি-জ্বরে ভুগছে।

রিকশাচালক মো. শাহিন বলেন, সকাল থেকে এখন ১২টা বাজে, ৫০ টাকাও ইনকাম হয়নি। পানিতে রিকশা চালানো যাচ্ছে না। যাত্রীও কম।

দোকানদার রিয়াজ শেখ বলেন, “পানি নষ্ট হয়ে মশা-মাছির বাসা হচ্ছে। খোলা খাবার দোকানে মাছি বসছে। আমরাও ভয় পাচ্ছি, যদি কাস্টমাররা অসুস্থ হয়। আমাদেরও তো রিজিক এখানেই।”

পৌরবাসীর অভিযোগ, বছর বছর সামান্য মেরামত আর ঔষধ ছিটিয়ে চলার চেষ্টা হচ্ছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান আসছে না। দ্রুত টেকসই ড্রেনেজ উন্নয়ন না হলে এই জলাবদ্ধতা থেকে তৈরি নানা রোগের হুমকির মুখে থাকতে হবে শহরবাসীকে।

আরেক বৃদ্ধ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এ বয়সে হাঁটু পানি পার হয়ে বাজারে যাওয়া যায় না। পায়ে ব্যথা আছে, তাই ঘরেই আটকে পড়েছি। কেউ সহায়তা করলে তবেই বাজার করতে পারি।

রিকশাচালক সুমন হাওলাদার জানালেন, রাস্তায় এত পানি যে রিকশা চালানো যায় না। দুই দিন কাজ করতে পারি নাই। বাচ্চাদের মুখে ভাত দিতে পারতেছি না।শিক্ষার্থী সাথী আক্তার বলেন, স্কুলে যেতে পারছি না, জুতা-পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। বই-খাতাও ভিজে গেছে। ঘরেও পড়ালেখা করা যাচ্ছে না।

গেল দুই মাসে দেশের অন্যান্য জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকলেও, বাগেরহাটে ডেঙ্গুর তেমন কোন প্রকোপ নেই। চলতি বছরে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ১০ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে একজন চিকিৎসাধীণ রয়েছে জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। এই অবস্থায় জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বাগেরহাট জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা থাকলে মশার বংশ বিস্তার হবে। বাগেরহাটবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে হলে জলাবদ্ধতা নিরসন করা প্রয়োজন।

এদিকে শুধু জলাবদ্ধতা নয়, বাগেরহাট শহরজুড়ে বিভিন্ন স্থানে থাকা ময়লার ভাগারও ভোগাবে শহরবাসীকে। শহরের হাড়িখালি, বাসাবাটি, সাহাপাড়া, নাগেরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লার ভাগার রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার

বাগেরহাট শহরে জলাবদ্ধতা, ডেঙ্গু-জ্বর-চর্মরোগ বৃদ্ধির শঙ্কা

আপডেট টাইম : 08:42:18 pm, Sunday, 13 July 2025

বাগেরহাট প্রতিনিধি:টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বাগেরহাট শহর জুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। শহরের প্রধান ও উপসড়কগুলোতে পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগ ব্যহত হচ্ছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার সাথে সাথে পানি কমে যাবে, বাগেরহাট শহরে সেরকম পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা নেই। যার ফলে শহরের বেশির ভাগ এলাকার অলি-গলিতে পানি থাকবে মাসের পর মাস। পানি নিস্কাশনের জন্য করা ড্রেণ ও নালায় জমে থাকা পানিতে জন্ম নেবে ডেঙ্গু মশা। যার ফলে বৃষ্টির পরে শহর জুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

বাগেরহাট শহরের রেল রোডের দুইপাশ, খানজাহান আলী রোড, মাছ বাজার, পুরাতন কোর্ট চত্বর, মল্লিকবাড়ির মোড়, বাসাবাটি, সাহাপাড়া, নাগেরবাজার, পিটিআইমোড়, জাহানাবাদ স্কুলের গলি, সোনাতলাসহ অন্তত ৩০টি স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা জন্মে ডেঙ্গু ছড়ানোর পাশাপাশি, জ্বর, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, পেটের পিরাসহ নানা রোগ হতে পারে শহরবাসীর। সব থেকে বেশি ঝুকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা শামীমা বেগম বলেন, বাগেরহাট শহর এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে। পুরো শহরজুড়ে পানি। আর এই পানি খুব সহজে নামবে না।

শহরের বাসিন্দা গৃহবধূ জেসমিন আক্তার বলেন, বাড়ির ভেতরে পানি উঠে গেছে। চুলায় আগুন ধরানো যাচ্ছে না। ছোট ছেলেটা পানিতে সর্দি-জ্বরে ভুগছে।

রিকশাচালক মো. শাহিন বলেন, সকাল থেকে এখন ১২টা বাজে, ৫০ টাকাও ইনকাম হয়নি। পানিতে রিকশা চালানো যাচ্ছে না। যাত্রীও কম।

দোকানদার রিয়াজ শেখ বলেন, “পানি নষ্ট হয়ে মশা-মাছির বাসা হচ্ছে। খোলা খাবার দোকানে মাছি বসছে। আমরাও ভয় পাচ্ছি, যদি কাস্টমাররা অসুস্থ হয়। আমাদেরও তো রিজিক এখানেই।”

পৌরবাসীর অভিযোগ, বছর বছর সামান্য মেরামত আর ঔষধ ছিটিয়ে চলার চেষ্টা হচ্ছে, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান আসছে না। দ্রুত টেকসই ড্রেনেজ উন্নয়ন না হলে এই জলাবদ্ধতা থেকে তৈরি নানা রোগের হুমকির মুখে থাকতে হবে শহরবাসীকে।

আরেক বৃদ্ধ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এ বয়সে হাঁটু পানি পার হয়ে বাজারে যাওয়া যায় না। পায়ে ব্যথা আছে, তাই ঘরেই আটকে পড়েছি। কেউ সহায়তা করলে তবেই বাজার করতে পারি।

রিকশাচালক সুমন হাওলাদার জানালেন, রাস্তায় এত পানি যে রিকশা চালানো যায় না। দুই দিন কাজ করতে পারি নাই। বাচ্চাদের মুখে ভাত দিতে পারতেছি না।শিক্ষার্থী সাথী আক্তার বলেন, স্কুলে যেতে পারছি না, জুতা-পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। বই-খাতাও ভিজে গেছে। ঘরেও পড়ালেখা করা যাচ্ছে না।

গেল দুই মাসে দেশের অন্যান্য জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকলেও, বাগেরহাটে ডেঙ্গুর তেমন কোন প্রকোপ নেই। চলতি বছরে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ১০ জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে একজন চিকিৎসাধীণ রয়েছে জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে। এই অবস্থায় জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন বাগেরহাট জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা থাকলে মশার বংশ বিস্তার হবে। বাগেরহাটবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে হলে জলাবদ্ধতা নিরসন করা প্রয়োজন।

এদিকে শুধু জলাবদ্ধতা নয়, বাগেরহাট শহরজুড়ে বিভিন্ন স্থানে থাকা ময়লার ভাগারও ভোগাবে শহরবাসীকে। শহরের হাড়িখালি, বাসাবাটি, সাহাপাড়া, নাগেরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লার ভাগার রয়েছে।