Dhaka , Saturday, 19 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

৭ বছরে জন্মেনি কোনো শিশু, তাই স্কুলে ভর্তি হয়নি কেউ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 02:17:05 pm, Thursday, 12 May 2022
  • 124 বার

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি।।

১৯৯১ সালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয় ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় । ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোটামুটি শিক্ষার্থী থাকলেও বিগত ৭ বছর ধরে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে নেই কোনো শিক্ষার্থী। মূলত; উল্লিখিত সময়ে স্কুল এলাকার ২৯টি পরিবারে কোনো শিশুর জন্ম না হওয়ায় শিক্ষার্থী সংকটে পড়েছে স্কুলটি। ফলে স্কুল বন্ধের সুপারিশ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী না থাকলেও আছেন তিনজন শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে না হলেও টানা ৭ বছর ধরেই বসে বসে বিনা পরিশ্রমে বেতন নিচ্ছেন তারা। তবে, অপেক্ষায় আছেন শিশু জন্মের এবং স্কুলে ভর্তির। বিষয়টি স্বীকার করে ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রানী বলেন, ‘২৯টি পরিবার নিয়ে আমাদের ময়নাপুর গ্রাম। এই গ্রামে গত ৭ বছরে কোনো বাচ্চা জন্মেনি। এ কারণে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর এই দুরবস্থা।’

সরেজমিনে ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, এটি যেন একটি পরিত্যক্ত জায়গা। পড়ে আছে বিশাল স্কুল ভবন। শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা। নেই কোনো শিক্ষার্থী-কোলাহল। তবে স্কুল ঘিরে আবর্জনার স্তুপ দেখা দেছে। স্কুল কাম আশ্রয় কেন্দ্রের নিচতলায় ধান শুকানো হচ্ছে। মাঠে চুলা বানিয়ে সেখানে ধান সেদ্ধও করা হচ্ছে। এভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি দাবি করে, গ্রামে ৬-৭ জন শিশু আছে। কিন্তু তারা এখনো স্কুলে ভর্তির উপযোগী হয়নি। তাদের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে মায়ের কোলে চড়ে স্কুলে এসে খেলাধুলা করে চলে যায়। এখন কিভাবে স্কুলে শিক্ষার্থী আনা যায়, সে চেষ্টা করছেন তারা।
এবিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিকদার আতিকুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থী সার্ভের পর গত মার্চ মাসে ময়নাপুর স্কুলটি বন্ধের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসে লিখেছি। কিন্ত এখনো সিদ্ধান্ত আসেনি।’

খুলনা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুদ্দোহা বলেন, ‘ওই স্কুলটি বন্ধ করে সেখানকার শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখেছি। সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে ডুমরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এ ২১৪ প্রতিষ্ঠানে ২২ হাজার ৬১৭ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। এরমধ্যে ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ এর নিচে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

৭ বছরে জন্মেনি কোনো শিশু, তাই স্কুলে ভর্তি হয়নি কেউ

আপডেট টাইম : 02:17:05 pm, Thursday, 12 May 2022

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি।।

১৯৯১ সালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয় ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় । ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোটামুটি শিক্ষার্থী থাকলেও বিগত ৭ বছর ধরে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে নেই কোনো শিক্ষার্থী। মূলত; উল্লিখিত সময়ে স্কুল এলাকার ২৯টি পরিবারে কোনো শিশুর জন্ম না হওয়ায় শিক্ষার্থী সংকটে পড়েছে স্কুলটি। ফলে স্কুল বন্ধের সুপারিশ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী না থাকলেও আছেন তিনজন শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে না হলেও টানা ৭ বছর ধরেই বসে বসে বিনা পরিশ্রমে বেতন নিচ্ছেন তারা। তবে, অপেক্ষায় আছেন শিশু জন্মের এবং স্কুলে ভর্তির। বিষয়টি স্বীকার করে ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রানী বলেন, ‘২৯টি পরিবার নিয়ে আমাদের ময়নাপুর গ্রাম। এই গ্রামে গত ৭ বছরে কোনো বাচ্চা জন্মেনি। এ কারণে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর এই দুরবস্থা।’

সরেজমিনে ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, এটি যেন একটি পরিত্যক্ত জায়গা। পড়ে আছে বিশাল স্কুল ভবন। শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা। নেই কোনো শিক্ষার্থী-কোলাহল। তবে স্কুল ঘিরে আবর্জনার স্তুপ দেখা দেছে। স্কুল কাম আশ্রয় কেন্দ্রের নিচতলায় ধান শুকানো হচ্ছে। মাঠে চুলা বানিয়ে সেখানে ধান সেদ্ধও করা হচ্ছে। এভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি দাবি করে, গ্রামে ৬-৭ জন শিশু আছে। কিন্তু তারা এখনো স্কুলে ভর্তির উপযোগী হয়নি। তাদের কেউ কেউ মাঝেমধ্যে মায়ের কোলে চড়ে স্কুলে এসে খেলাধুলা করে চলে যায়। এখন কিভাবে স্কুলে শিক্ষার্থী আনা যায়, সে চেষ্টা করছেন তারা।
এবিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিকদার আতিকুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থী সার্ভের পর গত মার্চ মাসে ময়নাপুর স্কুলটি বন্ধের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসে লিখেছি। কিন্ত এখনো সিদ্ধান্ত আসেনি।’

খুলনা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. সিরাজুদ্দোহা বলেন, ‘ওই স্কুলটি বন্ধ করে সেখানকার শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখেছি। সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা পেলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে ডুমরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ২১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। এ ২১৪ প্রতিষ্ঠানে ২২ হাজার ৬১৭ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। এরমধ্যে ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ এর নিচে।