Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা
বৈরী আবহাওয়ায় পর্যটক কম

তিন মাস পর দুয়ার খুলল সুন্দরবন

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 06:34:02 pm, Tuesday, 1 September 2026
  • 40 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর পর্যটক, জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে অপার সৌন্দর্যের এই বন। পহেলা জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ, মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ ও পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বৈরী আবহাওয়ার কারণে করমজল কেন্দ্রে মাত্র একটি পর্যটকবাহী ট্রলার এসেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর প্রথম দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত ২ শতাধিক নৌযানের পাস ইস্যু করা হয়েছে। এসব নৌযানে চার শতাধিক জেলে ও বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে মোট সাতটি বড় লঞ্চ ও দুটি জালি বোট সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় প্রবেশ করেছে। এসব নৌযানে ৫০০-এর বেশি পর্যটক ছিলেন।

তবে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার প্রথম দিন সকাল থেকেই বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস থাকায় অনেক পর্যটক সুন্দরবনে যেতে পারেননি।

সাভার থেকে আসা পর্যটক দম্পতি রিয়া ও রাব্বি হাসান বলেন, সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখতে এসেছি আমরা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া বৃষ্টি থাকার কারণে বনে প্রবেশ করতে পারেনি। আবহাওয়া ভালো হলে বনে যাব।

মালয়েশিয়া প্রবাসী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ছুটিতে বাংলাদেশে এসেছি, এসেই দেখি সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ। সুন্দরবনের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরিবারের আবদার মেটাতে করমজলে ঘুরতে এসেছে। আমার ছুটির সময়ও প্রায় শেষের পথে। হালকা বৃষ্টির মধ্যে প্রকৃতি যেনো নতুন রূপে সেজেছে, দেখে মুগ্ধ হয়েছি।

বাগেরহাট সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, প্রথম দিনে প্রায় ৫০০ দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবনে ঘুরতে এসেছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের সংখ্যা কম ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। রিসোর্টগুলোতে অতিথি থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকে বনের ভেতরে যেতে পারেননি। এদিকে নিষেধাজ্ঞার তিন মাসে বনে মানুষের আনাগোনা ও নৌযান চলাচল কম থাকায় বন্যপ্রাণী তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ পেয়েছে।

সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য বৈধ পাস-পারমিট দেওয়া, নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বনজীবীদের প্রবেশ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার জুড়ে আবারও শুরু হয়েছে জীবনের জয়গান। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবি হরিণ, বানর, কুমির, গুইশাপসহ ২৮৯ প্রজাতির স্থলজ প্রাণী, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর এবং বিভিন্ন প্রকার মাছসহ ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী, ২৯০ প্রজাতির পাখি ও ৩৪৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যে দুই প্রজাতির উভচর, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৫ প্রজাতির পাখি এবং পাঁচ প্রজাতির স্তন্যপায়ী রয়েছে।

ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানের (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে পহেলা জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ থাকত। পরে ২০২২ সালে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে পহেলা জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এই সময়ে কর্মহীন জেলেদের মৎস্য অধিদপ্তর থেকে খাদ্য সহায়তা করা হয়ে থাকে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বৈরী আবহাওয়ায় পর্যটক কম

তিন মাস পর দুয়ার খুলল সুন্দরবন

আপডেট টাইম : 06:34:02 pm, Tuesday, 1 September 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর পর্যটক, জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে অপার সৌন্দর্যের এই বন। পহেলা জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ, মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ ও পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বৈরী আবহাওয়ার কারণে করমজল কেন্দ্রে মাত্র একটি পর্যটকবাহী ট্রলার এসেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর প্রথম দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত ২ শতাধিক নৌযানের পাস ইস্যু করা হয়েছে। এসব নৌযানে চার শতাধিক জেলে ও বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে মোট সাতটি বড় লঞ্চ ও দুটি জালি বোট সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় প্রবেশ করেছে। এসব নৌযানে ৫০০-এর বেশি পর্যটক ছিলেন।

তবে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার প্রথম দিন সকাল থেকেই বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস থাকায় অনেক পর্যটক সুন্দরবনে যেতে পারেননি।

সাভার থেকে আসা পর্যটক দম্পতি রিয়া ও রাব্বি হাসান বলেন, সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখতে এসেছি আমরা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া বৃষ্টি থাকার কারণে বনে প্রবেশ করতে পারেনি। আবহাওয়া ভালো হলে বনে যাব।

মালয়েশিয়া প্রবাসী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ছুটিতে বাংলাদেশে এসেছি, এসেই দেখি সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ। সুন্দরবনের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরিবারের আবদার মেটাতে করমজলে ঘুরতে এসেছে। আমার ছুটির সময়ও প্রায় শেষের পথে। হালকা বৃষ্টির মধ্যে প্রকৃতি যেনো নতুন রূপে সেজেছে, দেখে মুগ্ধ হয়েছি।

বাগেরহাট সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, প্রথম দিনে প্রায় ৫০০ দেশি-বিদেশি পর্যটক সুন্দরবনে ঘুরতে এসেছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের সংখ্যা কম ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। রিসোর্টগুলোতে অতিথি থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকে বনের ভেতরে যেতে পারেননি। এদিকে নিষেধাজ্ঞার তিন মাসে বনে মানুষের আনাগোনা ও নৌযান চলাচল কম থাকায় বন্যপ্রাণী তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ পেয়েছে।

সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য বৈধ পাস-পারমিট দেওয়া, নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বনজীবীদের প্রবেশ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার জুড়ে আবারও শুরু হয়েছে জীবনের জয়গান। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মায়াবি হরিণ, বানর, কুমির, গুইশাপসহ ২৮৯ প্রজাতির স্থলজ প্রাণী, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর এবং বিভিন্ন প্রকার মাছসহ ২১৯ প্রজাতির জলজ প্রাণী, ২৯০ প্রজাতির পাখি ও ৩৪৪ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যে দুই প্রজাতির উভচর, ১৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ২৫ প্রজাতির পাখি এবং পাঁচ প্রজাতির স্তন্যপায়ী রয়েছে।

ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানের (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে পহেলা জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ থাকত। পরে ২০২২ সালে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে পহেলা জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এই সময়ে কর্মহীন জেলেদের মৎস্য অধিদপ্তর থেকে খাদ্য সহায়তা করা হয়ে থাকে।