Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সড়ক মন্ত্রীর উপহার বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেক বিতরণ বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই

তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 09:58:27 pm, Wednesday, 27 April 2022
  • 188 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে গত কয়েক দিনের তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফ্যানের নিচে গিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না এ অঞ্চলের আবাল-বৃদ্ধবণিতা। পবিত্র রমজান মাসে তীব্র গরমে খেটে খাওয়া মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে বেশি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না অনেকে।

সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে ছড়াচ্ছে তাপমাত্রা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তাপপ্রবাহের তীব্রতা। আর গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরমে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক, শ্রমজীবী ও কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। কাজকর্ম করতে না পারায় এসব পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিরও জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাতাসের আর্দ্রতা না থাকায় তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। তাপপ্রবাহের পাশাপাশি বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিই অতিরিক্ত গরমের অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বুধবার দুপুরে (২৭ এপ্রিল) বাগেরহাট শহরের রিকশাচালক মতলেব শেখ বলেন, তীব্র গরমে সারাদিন খাটুনির পর রাতের ঘুমও ঠিকমতো হচ্ছে না। জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড রোদেও রাস্তায় বের হতে বাধ্য হচ্ছি। গত মঙ্গলবার বাগেরহাটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি, সোমবার ছিল ৩৯.২ ডিগ্রি ও রোববার ছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, আগামী দু-একদিনের মধ্যে বৃষ্টি হতে পারে। তাপমাত্র কমে আসবে। প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। নিউমোনিয়া, পাতলা পায়খানা, আমাশয়, জ্বর ও সর্দি-কাশীতে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন তারা।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, গরমে যতটা পারা যায় ছায়ায় অবস্থান ও বেশি পানি পান করতে হবে। রোজাদারদের ইফতারের পর বেশি পানি পান ও স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে।

বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার বকসী বলেন, এ গরমে বেশিক্ষণ খোলা জায়গায় থাকলে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে। যত সময় পারা যায় ছায়ায় অবস্থান করতে হবে। ভ্যাপসা গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়, তাই প্রয়োজন স্বাভাবিকের চেয়ে কমপক্ষে ১ লিটার পানি বেশি পান করা। ডাবের পানিতে ইলেক্ট্রোলাইট থাকে এজন্য ডাবের পানি পান করা যেতে পারে। প্রয়োজনে খাওয়ার স্যালাইন খেতে হবে।

এদকে, প্রচণ্ড গরমে মাঠে কাজ করতে যেতে পারছেন না কৃষকরা। বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পাঁচলী গ্রামের কৃষক শেখ আলমগীর বলেন, মাঠে পাকা ধান। প্রচণ্ড গরমে মাঠেই থাকা যাচ্ছে না। বাজারে শ্রমিকের দামও অনেক বেশি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, বোরো মৌসুমে এখন পাকা ধান মাঠে রয়েছে। প্রচণ্ড গরমে কৃষক মাঠে দাঁড়াতেই পারছে না। আবার আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কৃষকদের খুব ভোরে ও বিকেলে সাবধানতার সঙ্গে মাঠে কাজ করে দ্রুত ফসল ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার

তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন

আপডেট টাইম : 09:58:27 pm, Wednesday, 27 April 2022

বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে গত কয়েক দিনের তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফ্যানের নিচে গিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না এ অঞ্চলের আবাল-বৃদ্ধবণিতা। পবিত্র রমজান মাসে তীব্র গরমে খেটে খাওয়া মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে বেশি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না অনেকে।

সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে ছড়াচ্ছে তাপমাত্রা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তাপপ্রবাহের তীব্রতা। আর গ্রীষ্মের ভ্যাপসা গরমে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক, শ্রমজীবী ও কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। কাজকর্ম করতে না পারায় এসব পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। মানুষের পাশাপাশি পশুপাখিরও জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাতাসের আর্দ্রতা না থাকায় তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। তাপপ্রবাহের পাশাপাশি বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিই অতিরিক্ত গরমের অন্যতম কারণ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বুধবার দুপুরে (২৭ এপ্রিল) বাগেরহাট শহরের রিকশাচালক মতলেব শেখ বলেন, তীব্র গরমে সারাদিন খাটুনির পর রাতের ঘুমও ঠিকমতো হচ্ছে না। জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড রোদেও রাস্তায় বের হতে বাধ্য হচ্ছি। গত মঙ্গলবার বাগেরহাটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি, সোমবার ছিল ৩৯.২ ডিগ্রি ও রোববার ছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, আগামী দু-একদিনের মধ্যে বৃষ্টি হতে পারে। তাপমাত্র কমে আসবে। প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। নিউমোনিয়া, পাতলা পায়খানা, আমাশয়, জ্বর ও সর্দি-কাশীতে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন তারা।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, গরমে যতটা পারা যায় ছায়ায় অবস্থান ও বেশি পানি পান করতে হবে। রোজাদারদের ইফতারের পর বেশি পানি পান ও স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে।

বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার বকসী বলেন, এ গরমে বেশিক্ষণ খোলা জায়গায় থাকলে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে। যত সময় পারা যায় ছায়ায় অবস্থান করতে হবে। ভ্যাপসা গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়, তাই প্রয়োজন স্বাভাবিকের চেয়ে কমপক্ষে ১ লিটার পানি বেশি পান করা। ডাবের পানিতে ইলেক্ট্রোলাইট থাকে এজন্য ডাবের পানি পান করা যেতে পারে। প্রয়োজনে খাওয়ার স্যালাইন খেতে হবে।

এদকে, প্রচণ্ড গরমে মাঠে কাজ করতে যেতে পারছেন না কৃষকরা। বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পাঁচলী গ্রামের কৃষক শেখ আলমগীর বলেন, মাঠে পাকা ধান। প্রচণ্ড গরমে মাঠেই থাকা যাচ্ছে না। বাজারে শ্রমিকের দামও অনেক বেশি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আজিজুর রহমান বলেন, বোরো মৌসুমে এখন পাকা ধান মাঠে রয়েছে। প্রচণ্ড গরমে কৃষক মাঠে দাঁড়াতেই পারছে না। আবার আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কৃষকদের খুব ভোরে ও বিকেলে সাবধানতার সঙ্গে মাঠে কাজ করে দ্রুত ফসল ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।