Dhaka , Thursday, 17 September 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ বাগেরহাটে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা বাগেরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ ৪০ কোটি টাকার পানি প্রকল্প অচল, পচা দিঘিতে মাছ শিকারের উৎসব ড্রেন না থাকায় জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে ব্রিজ ঋণের বোঝা, আ.লীগের ‘দায়’ বিএনপির ‘ঘাড়ে’ সমাজবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বগুড়ায় প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারীর মৃত্যু বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলার সত্যতা পায়নি পিবিআই, বাদীপক্ষের নারাজি

প্রেমের টানে অস্ট্রেলিয়া থেকে খুলনায় এসে কষ্টে জীবনযাপন

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 11:19:10 am, Friday, 29 April 2022
  • 166 বার

হেদায়েৎ হোসেন: বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে বই লিখতে ২০০১ সালে বাংলাদেশে আসেন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ম্যালকম আর্নল্ড। ভালোবেসে বিয়ে করেন বাগেরহাটের মোংলার স্বামী পরিত্যক্ত দরিদ্র নারী হালিমাকে। আর্নল্ড অস্ট্রেলিয়ার বাড়ি বিক্রি করে বাংলাদেশে চলে এসেছিলেন। সেই থেকে এ দেশেই বসবাস করছেন স্ত্রীসহ। বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না, বাসা ভাড়া দিতে পারছেন না, এমনকি খাবারের ব্যবস্থা করাও সম্ভব হচ্ছে না।

ম্যালকম আর্নল্ড তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমার স্ত্রীই এখন সব। সে আমার সেবা-শুশ্রূষা করছে মনপ্রাণ দিয়ে। আমার পাশে থেকেছে সুদীর্ঘকাল। আমি দেশে (অস্ট্রেলিয়া) ফিরতে চাই না। এ দেশের মাটিতেই থাকতে চাই।’অর্থ সংকটের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ দেশের বিভিন্ন ছবি একে জীবিকা নির্বাহ করতাম। কিন্তু করোনার কারণে ছবি বিক্রিও হয় না এখন। অসুস্থ হওয়ার কারণে আগের মতো ছবি আঁকতেও পারি না। হাত কাপে। অর্থাভাবে চিকিৎসা করানো কঠিন হচ্ছে।’

ম্যালকম আর্নল্ডের স্ত্রী হালিমা বেগম জানান,তিনি স্বামী পরিত্যক্ত হওয়ার পর মেয়েকে নিয়ে জীবন বাঁচাতে মোংলায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের হয়ে নারীদের যৌন সমস্যা সচেতনতার বিষয়ে কাজ করতেন। ২০০১ সালে ম্যালকম আর্নল্ড মোংলায় এসে ঘোরার সময়ে তার সঙ্গে কথা বলেন। তার বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এরপর চলে গেলেও তাদের মধ্যে চিঠি বিনিময় ছিল। এ অবস্থায় হালিমার ইউট্রাস সমস্যা শনাক্ত হয়। ঢাকার পিজি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক তার চিকিৎসা করছিলেন। তিনি হালিমাকে অপারেশন করাতে বলেন। কিন্তু অর্থ সঙ্কটে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। বিষয়টি চিঠি লিখে আর্নল্ডকে জানান তিনি।

তারপর বন্ধুদের কাছ থেকে ২০০০ ডলার নিয়ে আর্নল্ড ২০০৩ সালে বাংলাদেশে আসেন এবং খুলনার হোটেল রয়েলে রেখে হালিমার চিকিৎসা করান। সুস্থ হওয়ার পর আর্নল্ড ফিরে যাওয়ার আগে হালিমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। হালিমা তাকে জানান, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে এবং এ দেশে থাকলে তাকে বিয়ে করতে পারবেন। এরপর আর্নল্ড দেশে ফিরে যান। সেখানে তার বাড়ি ও জমি বিক্রি করে টাকাপয়সা নিয়ে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্নল্ড বাংলাদেশে আসেন এবং হালিমাকে বিয়ে করেন। সেই থেকে তিনি বাংলাদেশেই আছেন।

হালিমা আরও জানান, তার সঙ্গে পরিচয়ের ১২-১৩ বছর আগে আর্নল্ডের আগের স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। তার সংসারেও সন্তান ছিল। বাংলাদেশে এসে তাকে বিয়ে করার পর আর্নল্ড বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে তার কাঙ্ক্ষিত বইয়ের কাজ শেষ করেন। প্রিন্ট করার জন্য ঢাকার একটি প্রকাশনা সংস্থায় ওই বইয়ের পাণ্ডুলিপি জমাও দেন। কিন্তু বইটি প্রকাশিত হয়নি।

অর্থ সংকটের কথা তুলে ধরে হালিমা বলেন, ‘আর্নল্ডের কাছে যথেষ্ট টাকাপয়সা ছিল। সবই তার এক বন্ধু নষ্ট করেছে। আমাকেও আর্নল্ডের কাছে অবিশ্বাসী করে রাখতো। তাই সে সময় বাড়ি করার জন্য জমি কিনে রাখার বিষয়টি তাকে বোঝাতে পারিনি। তাই এখন বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। আর্নল্ড ছবি এঁকে জীবিকা নির্বাহ করতো। ২০১১ সালে সে প্রথম স্ট্রোক করে। তারপরও সুস্থ হয়েছিল। করোনার কারণে তার ছবি বিক্রি হয়নি। ফলে এখন সংসার চালানোর পাশাপাশি চিকিৎসা করানোর মতো অর্থ নেই। করোনার মধ্যে চার-পাঁচ জন কিছু কিছু সহয়তা দিয়েছেন। তাই তখন একসঙ্গে চার মাসের ঘর ভাড়াও দেওয়া হয়। এখন খাওয়া দাওয়া করা, ঘর ভাড়া দেওয়া এবং ওর ওষুধ কেনা ও চিকিৎসা করানো কঠিন হচ্ছে। বর্তমানে তারা সোনাডাঙ্গা এলাকার মাদ্রাসা গলির একটি ভবনের তিন তলায় বসবাস করছেন।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে বসতবাড়ির তালা ভেঙে মূল্যবান মালামাল ও দলিলপত্র লুটের অভিযোগ

প্রেমের টানে অস্ট্রেলিয়া থেকে খুলনায় এসে কষ্টে জীবনযাপন

আপডেট টাইম : 11:19:10 am, Friday, 29 April 2022

হেদায়েৎ হোসেন: বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে বই লিখতে ২০০১ সালে বাংলাদেশে আসেন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ম্যালকম আর্নল্ড। ভালোবেসে বিয়ে করেন বাগেরহাটের মোংলার স্বামী পরিত্যক্ত দরিদ্র নারী হালিমাকে। আর্নল্ড অস্ট্রেলিয়ার বাড়ি বিক্রি করে বাংলাদেশে চলে এসেছিলেন। সেই থেকে এ দেশেই বসবাস করছেন স্ত্রীসহ। বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না, বাসা ভাড়া দিতে পারছেন না, এমনকি খাবারের ব্যবস্থা করাও সম্ভব হচ্ছে না।

ম্যালকম আর্নল্ড তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমার স্ত্রীই এখন সব। সে আমার সেবা-শুশ্রূষা করছে মনপ্রাণ দিয়ে। আমার পাশে থেকেছে সুদীর্ঘকাল। আমি দেশে (অস্ট্রেলিয়া) ফিরতে চাই না। এ দেশের মাটিতেই থাকতে চাই।’অর্থ সংকটের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ দেশের বিভিন্ন ছবি একে জীবিকা নির্বাহ করতাম। কিন্তু করোনার কারণে ছবি বিক্রিও হয় না এখন। অসুস্থ হওয়ার কারণে আগের মতো ছবি আঁকতেও পারি না। হাত কাপে। অর্থাভাবে চিকিৎসা করানো কঠিন হচ্ছে।’

ম্যালকম আর্নল্ডের স্ত্রী হালিমা বেগম জানান,তিনি স্বামী পরিত্যক্ত হওয়ার পর মেয়েকে নিয়ে জীবন বাঁচাতে মোংলায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের হয়ে নারীদের যৌন সমস্যা সচেতনতার বিষয়ে কাজ করতেন। ২০০১ সালে ম্যালকম আর্নল্ড মোংলায় এসে ঘোরার সময়ে তার সঙ্গে কথা বলেন। তার বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এরপর চলে গেলেও তাদের মধ্যে চিঠি বিনিময় ছিল। এ অবস্থায় হালিমার ইউট্রাস সমস্যা শনাক্ত হয়। ঢাকার পিজি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক তার চিকিৎসা করছিলেন। তিনি হালিমাকে অপারেশন করাতে বলেন। কিন্তু অর্থ সঙ্কটে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। বিষয়টি চিঠি লিখে আর্নল্ডকে জানান তিনি।

তারপর বন্ধুদের কাছ থেকে ২০০০ ডলার নিয়ে আর্নল্ড ২০০৩ সালে বাংলাদেশে আসেন এবং খুলনার হোটেল রয়েলে রেখে হালিমার চিকিৎসা করান। সুস্থ হওয়ার পর আর্নল্ড ফিরে যাওয়ার আগে হালিমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। হালিমা তাকে জানান, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে এবং এ দেশে থাকলে তাকে বিয়ে করতে পারবেন। এরপর আর্নল্ড দেশে ফিরে যান। সেখানে তার বাড়ি ও জমি বিক্রি করে টাকাপয়সা নিয়ে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্নল্ড বাংলাদেশে আসেন এবং হালিমাকে বিয়ে করেন। সেই থেকে তিনি বাংলাদেশেই আছেন।

হালিমা আরও জানান, তার সঙ্গে পরিচয়ের ১২-১৩ বছর আগে আর্নল্ডের আগের স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। তার সংসারেও সন্তান ছিল। বাংলাদেশে এসে তাকে বিয়ে করার পর আর্নল্ড বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে তার কাঙ্ক্ষিত বইয়ের কাজ শেষ করেন। প্রিন্ট করার জন্য ঢাকার একটি প্রকাশনা সংস্থায় ওই বইয়ের পাণ্ডুলিপি জমাও দেন। কিন্তু বইটি প্রকাশিত হয়নি।

অর্থ সংকটের কথা তুলে ধরে হালিমা বলেন, ‘আর্নল্ডের কাছে যথেষ্ট টাকাপয়সা ছিল। সবই তার এক বন্ধু নষ্ট করেছে। আমাকেও আর্নল্ডের কাছে অবিশ্বাসী করে রাখতো। তাই সে সময় বাড়ি করার জন্য জমি কিনে রাখার বিষয়টি তাকে বোঝাতে পারিনি। তাই এখন বাসা ভাড়া করে থাকতে হচ্ছে। আর্নল্ড ছবি এঁকে জীবিকা নির্বাহ করতো। ২০১১ সালে সে প্রথম স্ট্রোক করে। তারপরও সুস্থ হয়েছিল। করোনার কারণে তার ছবি বিক্রি হয়নি। ফলে এখন সংসার চালানোর পাশাপাশি চিকিৎসা করানোর মতো অর্থ নেই। করোনার মধ্যে চার-পাঁচ জন কিছু কিছু সহয়তা দিয়েছেন। তাই তখন একসঙ্গে চার মাসের ঘর ভাড়াও দেওয়া হয়। এখন খাওয়া দাওয়া করা, ঘর ভাড়া দেওয়া এবং ওর ওষুধ কেনা ও চিকিৎসা করানো কঠিন হচ্ছে। বর্তমানে তারা সোনাডাঙ্গা এলাকার মাদ্রাসা গলির একটি ভবনের তিন তলায় বসবাস করছেন।’