Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সড়ক মন্ত্রীর উপহার বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেক বিতরণ বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই

বাগেরহাটে বর-কনেসহ নিহত ১৪, দাফনের অপেক্ষায় স্বজনেরা

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 02:24:22 pm, Friday, 13 March 2026
  • 56 বার

নিজস্ব প্রতিবেদক,বাগেরহাট:নববধূকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগেই বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা ছিল বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর স্বজনদের। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা অপেক্ষায় ছিলেন নতুন বউকে বরণ করার জন্য।

সবকিছু ঠিক থাকলে আজ শুক্রবার সকালে গ্রামবাংলার চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী নতুন বউকে ঘিরে খুনসুটি, খাওয়াদাওয়া আর শিশুদের হই-হুল্লোড়ে মুখর থাকত বাড়িটি। কিন্তু এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সেই আনন্দের সব আয়োজন। বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে নববধূকে বহনকারী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটির যাত্রীরা গুরুতর হতাহত হন।

রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোবাসের চালকসহ দুই পরিবারের ১৪ জন নিহত হয়েছেন। গভীর রাতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ মোংলায়, ৪ জনের মরদেহ কয়রায় এবং মাইক্রোবাসচালকের মরদেহ নেওয়া হয়েছে রামপালে। এখন শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় স্বজনেরা।

আব্দুর রাজ্জাকের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। দুর্ঘটনায় তাঁর দুই ছেলে, এক মেয়ে, এক পুত্রবধূ ও চার নাতি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ এখন বাড়িতে রাখা হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। জীবিত থাকা তিন ছেলে, তাঁদের মা ও অন্য স্বজনেরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে হারানো জনি বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি একা হয়ে গেলাম।’

রাজ্জাকের প্রতিবেশী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, মরদেহের গোসল সম্পন্ন হয়েছে। জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে দাফন করা হবে। জানাজায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত থাকতে পারেন।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার

বাগেরহাটে বর-কনেসহ নিহত ১৪, দাফনের অপেক্ষায় স্বজনেরা

আপডেট টাইম : 02:24:22 pm, Friday, 13 March 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক,বাগেরহাট:নববধূকে নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগেই বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা ছিল বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর স্বজনদের। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা অপেক্ষায় ছিলেন নতুন বউকে বরণ করার জন্য।

সবকিছু ঠিক থাকলে আজ শুক্রবার সকালে গ্রামবাংলার চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী নতুন বউকে ঘিরে খুনসুটি, খাওয়াদাওয়া আর শিশুদের হই-হুল্লোড়ে মুখর থাকত বাড়িটি। কিন্তু এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সেই আনন্দের সব আয়োজন। বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে নববধূকে বহনকারী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটির যাত্রীরা গুরুতর হতাহত হন।

রাত ১০টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোবাসের চালকসহ দুই পরিবারের ১৪ জন নিহত হয়েছেন। গভীর রাতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ মোংলায়, ৪ জনের মরদেহ কয়রায় এবং মাইক্রোবাসচালকের মরদেহ নেওয়া হয়েছে রামপালে। এখন শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় স্বজনেরা।

আব্দুর রাজ্জাকের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। দুর্ঘটনায় তাঁর দুই ছেলে, এক মেয়ে, এক পুত্রবধূ ও চার নাতি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ এখন বাড়িতে রাখা হয়েছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। জীবিত থাকা তিন ছেলে, তাঁদের মা ও অন্য স্বজনেরা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে হারানো জনি বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। স্ত্রী, সন্তান, ভাই-বোন সবাইকে হারালাম। আমি একা হয়ে গেলাম।’

রাজ্জাকের প্রতিবেশী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, মরদেহের গোসল সম্পন্ন হয়েছে। জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে দাফন করা হবে। জানাজায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত থাকতে পারেন।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।