Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

৩০০ বছরের পুরনো তালগাছ ঘিরে হাজারো ভৌতিক গল্প

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 12:45:15 pm, Monday, 2 May 2022
  • 143 বার

অনলাইন ডেক্স: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ভাটিরা গ্রামের ৩০০ বছরের পুরনো একটি তালগাছ ঘিরে হাজারো ভৌতিক গল্প শোনা যায় লোকমুখে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই গাছকে ঘিরে পূজা অর্চনাও করে থাকেন। পূজার পরে গাছের গোড়ায় মানতের উদ্দেশ্যে ভোগ রেখে আসেন। তারা বিশ্বাস করেন, এই গাছের ঐশ্বরিক ক্ষমতা রয়েছে। আর তাই কেউ চাইলেও এই গাছের কোনো ক্ষতি করতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে সনাতন ধর্মের একজন মানত করা খাসি তালগাছের নিচে বেঁধে চলে যান। সেই খাসি আমার ফুপা ওয়াজউদ্দিন আলী (ফজু) তুলে নিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলেন। এর কয়েকদিন পরেই হঠাৎ তিনি মারা যান।’

আব্দুল আলী নামে আরেকজন বলেন, ‘একদিন এক লোক মানত করা মুরগির বাচ্চা তালগাছের নিছে বেঁধে রেখে চলে যান। পরে আমার ছোটভাই ওয়াহীদ আলী সেই মুরগির বাচ্চা বাড়িতে নিয়ে আসে। নিয়ে আসার একদিন পরেই মুরগির বাচ্চাটি মারা যায় এবং ওয়াহীদ আলীর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে মুরগির বাচ্চা কিনে সেই তালগাছের নিচে রেখে আসি। পরে ছোটভাইর পেটের ব্যথা কমে যায়।’

নাদিম ফকির নামে এক কিশোর শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভূত বলে কিছু আছে, তা বিশ্বাস করি না। কিন্তু আমার দাদা এবং বাবার কাছে শুনেছি, এই গাছে ভূত থাকে। গাছটি কেউ কাটতে চাইলে তার কোনো না কোনো ক্ষতি হয়েছে।’

তালগাছের গল্প শুনে ঘুরতে আসা রাসেল মিয়া নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ‘৩০০ বছরের পুরনো গাছটির অনেক গল্প শুনে ঘুরতে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে, বিকেলে পরিবেশটাও অনেক সুন্দর। চারপাশে সবুজ ধানক্ষেত। ধান কাটা হয়ে গেলে একেবারে ফাঁকা জায়গায় তালগাছটি ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে। দূর থেকে লোকজন সহজেই বলতে পারে এটা ভাটিরা বিল বা গ্রাম।’

শিক্ষক আব্দুর রহমান আরমান বলেন, ‘তালগাছটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনেক গল্প আছে। আমরা ভাটিরা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দাদের কাছে অনেক ভৌতিক গল্প শুনেছি। তারাও আবার তাদের মুরব্বিদের কাছে শুনেছেন। তবে ভাটিরা বিলের ঠিক মাঝখানে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছটি বহুদূর থেকেই এলাকা চিহ্নিত করে। প্রতিদিন বিকেলে মানুষজন এখানে ঘুরতে আসে। আবার সন্ধ্যা নামার আগেই চলে যায়।’

বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান ফারুক বলেন, ‘জনশ্রুতি রয়েছে, এই গাছটি বহুবার কেটে ফেলার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত কাটা যায়নি। ৩০০ বছরের পুরনো তালগাছটি এখন স্থানীয়দের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসেন তালগাছটির রহস্য জানতে।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

৩০০ বছরের পুরনো তালগাছ ঘিরে হাজারো ভৌতিক গল্প

আপডেট টাইম : 12:45:15 pm, Monday, 2 May 2022

অনলাইন ডেক্স: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ভাটিরা গ্রামের ৩০০ বছরের পুরনো একটি তালগাছ ঘিরে হাজারো ভৌতিক গল্প শোনা যায় লোকমুখে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই গাছকে ঘিরে পূজা অর্চনাও করে থাকেন। পূজার পরে গাছের গোড়ায় মানতের উদ্দেশ্যে ভোগ রেখে আসেন। তারা বিশ্বাস করেন, এই গাছের ঐশ্বরিক ক্ষমতা রয়েছে। আর তাই কেউ চাইলেও এই গাছের কোনো ক্ষতি করতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে সনাতন ধর্মের একজন মানত করা খাসি তালগাছের নিচে বেঁধে চলে যান। সেই খাসি আমার ফুপা ওয়াজউদ্দিন আলী (ফজু) তুলে নিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলেন। এর কয়েকদিন পরেই হঠাৎ তিনি মারা যান।’

আব্দুল আলী নামে আরেকজন বলেন, ‘একদিন এক লোক মানত করা মুরগির বাচ্চা তালগাছের নিছে বেঁধে রেখে চলে যান। পরে আমার ছোটভাই ওয়াহীদ আলী সেই মুরগির বাচ্চা বাড়িতে নিয়ে আসে। নিয়ে আসার একদিন পরেই মুরগির বাচ্চাটি মারা যায় এবং ওয়াহীদ আলীর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে মুরগির বাচ্চা কিনে সেই তালগাছের নিচে রেখে আসি। পরে ছোটভাইর পেটের ব্যথা কমে যায়।’

নাদিম ফকির নামে এক কিশোর শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভূত বলে কিছু আছে, তা বিশ্বাস করি না। কিন্তু আমার দাদা এবং বাবার কাছে শুনেছি, এই গাছে ভূত থাকে। গাছটি কেউ কাটতে চাইলে তার কোনো না কোনো ক্ষতি হয়েছে।’

তালগাছের গল্প শুনে ঘুরতে আসা রাসেল মিয়া নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ‘৩০০ বছরের পুরনো গাছটির অনেক গল্প শুনে ঘুরতে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে, বিকেলে পরিবেশটাও অনেক সুন্দর। চারপাশে সবুজ ধানক্ষেত। ধান কাটা হয়ে গেলে একেবারে ফাঁকা জায়গায় তালগাছটি ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে। দূর থেকে লোকজন সহজেই বলতে পারে এটা ভাটিরা বিল বা গ্রাম।’

শিক্ষক আব্দুর রহমান আরমান বলেন, ‘তালগাছটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনেক গল্প আছে। আমরা ভাটিরা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দাদের কাছে অনেক ভৌতিক গল্প শুনেছি। তারাও আবার তাদের মুরব্বিদের কাছে শুনেছেন। তবে ভাটিরা বিলের ঠিক মাঝখানে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছটি বহুদূর থেকেই এলাকা চিহ্নিত করে। প্রতিদিন বিকেলে মানুষজন এখানে ঘুরতে আসে। আবার সন্ধ্যা নামার আগেই চলে যায়।’

বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান ফারুক বলেন, ‘জনশ্রুতি রয়েছে, এই গাছটি বহুবার কেটে ফেলার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত কাটা যায়নি। ৩০০ বছরের পুরনো তালগাছটি এখন স্থানীয়দের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসেন তালগাছটির রহস্য জানতে।’