অনলাইন ডেক্স: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ভাটিরা গ্রামের ৩০০ বছরের পুরনো একটি তালগাছ ঘিরে হাজারো ভৌতিক গল্প শোনা যায় লোকমুখে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই গাছকে ঘিরে পূজা অর্চনাও করে থাকেন। পূজার পরে গাছের গোড়ায় মানতের উদ্দেশ্যে ভোগ রেখে আসেন। তারা বিশ্বাস করেন, এই গাছের ঐশ্বরিক ক্ষমতা রয়েছে। আর তাই কেউ চাইলেও এই গাছের কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে সনাতন ধর্মের একজন মানত করা খাসি তালগাছের নিচে বেঁধে চলে যান। সেই খাসি আমার ফুপা ওয়াজউদ্দিন আলী (ফজু) তুলে নিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলেন। এর কয়েকদিন পরেই হঠাৎ তিনি মারা যান।’
আব্দুল আলী নামে আরেকজন বলেন, ‘একদিন এক লোক মানত করা মুরগির বাচ্চা তালগাছের নিছে বেঁধে রেখে চলে যান। পরে আমার ছোটভাই ওয়াহীদ আলী সেই মুরগির বাচ্চা বাড়িতে নিয়ে আসে। নিয়ে আসার একদিন পরেই মুরগির বাচ্চাটি মারা যায় এবং ওয়াহীদ আলীর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে মুরগির বাচ্চা কিনে সেই তালগাছের নিচে রেখে আসি। পরে ছোটভাইর পেটের ব্যথা কমে যায়।’
নাদিম ফকির নামে এক কিশোর শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভূত বলে কিছু আছে, তা বিশ্বাস করি না। কিন্তু আমার দাদা এবং বাবার কাছে শুনেছি, এই গাছে ভূত থাকে। গাছটি কেউ কাটতে চাইলে তার কোনো না কোনো ক্ষতি হয়েছে।’
তালগাছের গল্প শুনে ঘুরতে আসা রাসেল মিয়া নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ‘৩০০ বছরের পুরনো গাছটির অনেক গল্প শুনে ঘুরতে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে, বিকেলে পরিবেশটাও অনেক সুন্দর। চারপাশে সবুজ ধানক্ষেত। ধান কাটা হয়ে গেলে একেবারে ফাঁকা জায়গায় তালগাছটি ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে। দূর থেকে লোকজন সহজেই বলতে পারে এটা ভাটিরা বিল বা গ্রাম।’
শিক্ষক আব্দুর রহমান আরমান বলেন, ‘তালগাছটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনেক গল্প আছে। আমরা ভাটিরা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দাদের কাছে অনেক ভৌতিক গল্প শুনেছি। তারাও আবার তাদের মুরব্বিদের কাছে শুনেছেন। তবে ভাটিরা বিলের ঠিক মাঝখানে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছটি বহুদূর থেকেই এলাকা চিহ্নিত করে। প্রতিদিন বিকেলে মানুষজন এখানে ঘুরতে আসে। আবার সন্ধ্যা নামার আগেই চলে যায়।’
বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান ফারুক বলেন, ‘জনশ্রুতি রয়েছে, এই গাছটি বহুবার কেটে ফেলার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত কাটা যায়নি। ৩০০ বছরের পুরনো তালগাছটি এখন স্থানীয়দের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসেন তালগাছটির রহস্য জানতে।’
Md.Liton 
















