Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সড়ক মন্ত্রীর উপহার বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেক বিতরণ বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই

মাজার দিঘি থেকে কুমিরের টেনে নেওয়া সেই শিশুর মরদেহ উদ্ধার

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 06:34:47 pm, Tuesday, 2 June 2026
  • 85 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিখোঁজ হওয়া সাত বছরের শিশু ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটের পাশ থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন মাজারের খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

এর আগে সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের ঘাটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফাতেমা মাজারে ভবঘুরে হিসেবে থাকা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান। এর বাইরে তার আর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।
যেভাবে উদ্ধার হলো মরদেহ

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে ঘটনার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে দিঘিতে রাতভর উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে মঙ্গলবার ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটের কাছে শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধারকারীরা তা তীরে নিয়ে আসেন।

ঘাটের পাশে থাকা স্থানীয় দোকানি বিনা বেগম জানান, “ভোরে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের কয়েক জায়গায় কুমিরের কামড়ের গভীর ক্ষত ও নখের দাগ রয়েছে।”

ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে ওই ঘাটে বেশ কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিলেন। শিশু ফাতেমা ঘাটে নামার পরপরই দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটি তাকে আচমকা আক্রমণ করে গভীর পানির দিকে টেনে নিয়ে যায়। ওই সময় শিশুটি এবং ঘাটে থাকা লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলেও, ভয়ে এবং আতঙ্কে কেউ পানিতে নেমে শিশুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার সাহস পায়নি। মুহূর্তের মধ্যেই শিশুটিকে নিয়ে চোখের আড়ালে চলে যায় কুমিরটি।
দাফনের প্রস্তুতি ও মাজার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে খানজাহান আলী মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, “ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে মহিলা ঘাটে রাখা হয়েছে। সে যেহেতু একজন ভবঘুরে ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান এবং তার সুনির্দিষ্ট কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পাওয়া যায়নি, তাই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে যথাযথ ধর্মীয় নিয়মে তার মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।”

এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মাজার ও আশেপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাজার দিঘির ঘাটে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায় আসছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার

মাজার দিঘি থেকে কুমিরের টেনে নেওয়া সেই শিশুর মরদেহ উদ্ধার

আপডেট টাইম : 06:34:47 pm, Tuesday, 2 June 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিখোঁজ হওয়া সাত বছরের শিশু ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটের পাশ থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন মাজারের খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

এর আগে সোমবার (১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের ঘাটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফাতেমা মাজারে ভবঘুরে হিসেবে থাকা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান। এর বাইরে তার আর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।
যেভাবে উদ্ধার হলো মরদেহ

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে ঘটনার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে দিঘিতে রাতভর উদ্ধার অভিযান চালায়। পরে মঙ্গলবার ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটের কাছে শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধারকারীরা তা তীরে নিয়ে আসেন।

ঘাটের পাশে থাকা স্থানীয় দোকানি বিনা বেগম জানান, “ভোরে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের কয়েক জায়গায় কুমিরের কামড়ের গভীর ক্ষত ও নখের দাগ রয়েছে।”

ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে ওই ঘাটে বেশ কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিলেন। শিশু ফাতেমা ঘাটে নামার পরপরই দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটি তাকে আচমকা আক্রমণ করে গভীর পানির দিকে টেনে নিয়ে যায়। ওই সময় শিশুটি এবং ঘাটে থাকা লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলেও, ভয়ে এবং আতঙ্কে কেউ পানিতে নেমে শিশুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার সাহস পায়নি। মুহূর্তের মধ্যেই শিশুটিকে নিয়ে চোখের আড়ালে চলে যায় কুমিরটি।
দাফনের প্রস্তুতি ও মাজার কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে খানজাহান আলী মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, “ভোরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে মহিলা ঘাটে রাখা হয়েছে। সে যেহেতু একজন ভবঘুরে ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর সন্তান এবং তার সুনির্দিষ্ট কোনো পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পাওয়া যায়নি, তাই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে যথাযথ ধর্মীয় নিয়মে তার মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।”

এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মাজার ও আশেপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাজার দিঘির ঘাটে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায় আসছে।