Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

বাগেরহাটে চারটি আসন বহালের দাবিতে ৪৮ ঘন্টা হরতাল শেষে আবার ৩ দিনের হরতালের ডাক

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 06:50:02 pm, Thursday, 11 September 2025
  • 1215 বার

স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট:চারটি আসন বহালের দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির উদ্যোগে বাগেরহাটে বুধ ও বৃহষ্পতিবার হরতালে শেষে আবারও ৪ দিনের কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়েছে। নতুন এই কর্মসূচীতে রয়েছে। রবিবার জেলা ও উপজেলার সকল সরকারী অফিস ও আদালত ঘেরাও ও অবরোধ এবং সোম, মঙ্গল ও বুধবার হরতালের কর্মসূচীর ডাক দিয়েছে। এদিকে ৪৮ ঘন্টা হরতালের কারণে বাগেরহাট থেকে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারে নি।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সম্মিলিত কমিটির কো কনভেনর এম.এ সালাম, সদস্য সচিব শেখ মোহাম্মদ ইউনুস আলী, জেলা জামায়েতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, বিএনপি নেতা মোজাফ্ফর রহমান আলম, সরদার লিয়াকত আলী প্রমূখ নেতৃবৃন্দ কর্মসূচী ঘোষনার সময়ে উপস্থিত ছিলেন।
বাগেরহাটের চারটি আসন বহালের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সড়কে আগুন জ্বালিয়ে, বেঞ্চ পেতে, বাঁশ বেঁধে ও গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ করছেন হরতালের সমর্থনকারীরা। সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির দাবি, জেলার বিভিন্ন সড়কের অন্তত ১৩৪ টি স্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা। যার ফলে বাগেরহাট জেলা কার্যত অন্যান্য জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এমনকি আন্তঃজেলা যোগাযোগ ব্যবস্থাও এক কথায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

এদিকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, দড়াটানা সেতুর দুইপাশ, ফতেপুর বাজার, সিএনবি বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পন্যবাহী ট্রাকের সারি দেখা গেছে। এর ফলে ব্যবসায়ী ও চালকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অপরদিকে এক শ্রেনীর অসাধু চাঁদাবাজ ট্রাক প্রতি দুই শত টাকা আদায় করছে বলে ট্রাক চালকদের কাছ থেকে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে হরতালের সমর্থন করে বাগেরহাট জেলা জুড়ে দোকানপাট খোলেননি ব্যবসায়ীরা। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
গত ৩০ জুলাই দুপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি আসন কমিয়ে জেলায় তিনটি আসন করার প্রাথমিক প্রস্তাব দেয়। এরপর থেকেই বাগেরহাটে আন্দোলন শুরু হয়। চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন বাগেরহাটবাসী। এরপরেও ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন শুধু সীমানা পরিবর্তন করে তিনটি আসন ঠিক রেখে চুড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। নির্বাচন কমিশনের এই আসন বিন্যাস গন মানুষের দাবিকে উপেক্ষা করেছে বলে জানান সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা।

চুড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী, বাগেরহাট-১ ( বাগেরহাট সদর-চিতলমারী-মোল্লাহাট), বাগেরহাট-২ (ফকিরহাট-রামপাল-মোংলা) ও বাগেরহাট-৩ (কচুয়া-মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা)। দেশ স্বাধীনের পর থেকে ৪টি আসনে নির্বাচন হয়ে আসছিল। তখনকার সীমানা ছিল বাগেরহাট-১ (চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট), বাগেরহাট-২(বাগেরহাট সদর-কচুয়া), বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা)। এই সীমানা ঠিক রাখার দাবী জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এসময়ে নেতৃবৃন্দ দাবী করেন, ১৯৭১ সাল থেকে বাগেরহাটের জনগন ৪ আসনে সংসদ নির্বাচন করে আসছে। সেই থেকে তারা বিভিন্ন উপজেলার সাথে মিলিয়ে আসনের সীমানা নির্ধারন করা হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন প্রক্রিয়ায় চারটি আসনকে তিনটি করতে গিয়ে এমন ভাবে কাটা ছাটা করে জগাখিচুরি পাকিয়েছে, তা নির্বাচন সীমানা নির্ধারনের আইনের ৬ ধারা পরিপন্থি। যেটার কারণে একদিকে যেমন নির্ধারণ করা উপজেলার মধ্যে সীমানার কোন মিল নেই। তেমনি যোগাযোগেরও বাঁধা গ্রস্থ হচ্ছে। এতে বাগেরহাটবাসী ক্ষুব্ধ হয়েছে। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার ঘোষনা দেন বিক্ষুদ্ধ নেতৃবৃন্দ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাটে চারটি আসন বহালের দাবিতে ৪৮ ঘন্টা হরতাল শেষে আবার ৩ দিনের হরতালের ডাক

আপডেট টাইম : 06:50:02 pm, Thursday, 11 September 2025

স্টাফ রিপোটার,বাগেরহাট:চারটি আসন বহালের দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির উদ্যোগে বাগেরহাটে বুধ ও বৃহষ্পতিবার হরতালে শেষে আবারও ৪ দিনের কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়েছে। নতুন এই কর্মসূচীতে রয়েছে। রবিবার জেলা ও উপজেলার সকল সরকারী অফিস ও আদালত ঘেরাও ও অবরোধ এবং সোম, মঙ্গল ও বুধবার হরতালের কর্মসূচীর ডাক দিয়েছে। এদিকে ৪৮ ঘন্টা হরতালের কারণে বাগেরহাট থেকে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারে নি।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সম্মিলিত কমিটির কো কনভেনর এম.এ সালাম, সদস্য সচিব শেখ মোহাম্মদ ইউনুস আলী, জেলা জামায়েতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, বিএনপি নেতা মোজাফ্ফর রহমান আলম, সরদার লিয়াকত আলী প্রমূখ নেতৃবৃন্দ কর্মসূচী ঘোষনার সময়ে উপস্থিত ছিলেন।
বাগেরহাটের চারটি আসন বহালের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সড়কে আগুন জ্বালিয়ে, বেঞ্চ পেতে, বাঁশ বেঁধে ও গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ করছেন হরতালের সমর্থনকারীরা। সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির দাবি, জেলার বিভিন্ন সড়কের অন্তত ১৩৪ টি স্থানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা। যার ফলে বাগেরহাট জেলা কার্যত অন্যান্য জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এমনকি আন্তঃজেলা যোগাযোগ ব্যবস্থাও এক কথায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

এদিকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, দড়াটানা সেতুর দুইপাশ, ফতেপুর বাজার, সিএনবি বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পন্যবাহী ট্রাকের সারি দেখা গেছে। এর ফলে ব্যবসায়ী ও চালকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অপরদিকে এক শ্রেনীর অসাধু চাঁদাবাজ ট্রাক প্রতি দুই শত টাকা আদায় করছে বলে ট্রাক চালকদের কাছ থেকে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে হরতালের সমর্থন করে বাগেরহাট জেলা জুড়ে দোকানপাট খোলেননি ব্যবসায়ীরা। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
গত ৩০ জুলাই দুপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি আসন কমিয়ে জেলায় তিনটি আসন করার প্রাথমিক প্রস্তাব দেয়। এরপর থেকেই বাগেরহাটে আন্দোলন শুরু হয়। চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন বাগেরহাটবাসী। এরপরেও ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন শুধু সীমানা পরিবর্তন করে তিনটি আসন ঠিক রেখে চুড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। নির্বাচন কমিশনের এই আসন বিন্যাস গন মানুষের দাবিকে উপেক্ষা করেছে বলে জানান সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা।

চুড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী, বাগেরহাট-১ ( বাগেরহাট সদর-চিতলমারী-মোল্লাহাট), বাগেরহাট-২ (ফকিরহাট-রামপাল-মোংলা) ও বাগেরহাট-৩ (কচুয়া-মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা)। দেশ স্বাধীনের পর থেকে ৪টি আসনে নির্বাচন হয়ে আসছিল। তখনকার সীমানা ছিল বাগেরহাট-১ (চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট), বাগেরহাট-২(বাগেরহাট সদর-কচুয়া), বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা)। এই সীমানা ঠিক রাখার দাবী জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এসময়ে নেতৃবৃন্দ দাবী করেন, ১৯৭১ সাল থেকে বাগেরহাটের জনগন ৪ আসনে সংসদ নির্বাচন করে আসছে। সেই থেকে তারা বিভিন্ন উপজেলার সাথে মিলিয়ে আসনের সীমানা নির্ধারন করা হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন প্রক্রিয়ায় চারটি আসনকে তিনটি করতে গিয়ে এমন ভাবে কাটা ছাটা করে জগাখিচুরি পাকিয়েছে, তা নির্বাচন সীমানা নির্ধারনের আইনের ৬ ধারা পরিপন্থি। যেটার কারণে একদিকে যেমন নির্ধারণ করা উপজেলার মধ্যে সীমানার কোন মিল নেই। তেমনি যোগাযোগেরও বাঁধা গ্রস্থ হচ্ছে। এতে বাগেরহাটবাসী ক্ষুব্ধ হয়েছে। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার ঘোষনা দেন বিক্ষুদ্ধ নেতৃবৃন্দ।