বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাট জেলায় “অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি”র উদ্যোগে কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত পুরুষ বন্দিদের জন্য দুই মাস মেয়াদী “বৈদ্যুতিক ওয়ারিং এন্ড রিপেয়ারিং” বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০:০০ টায় বাগেরহাট জেলা কারাগারে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বাগেরহাট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক সন্তোষ কুমার নাথ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক, বাগেরহাট জনাব গোলাম মো. বাতেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাগেরহাটের উপপরিচালক মো. আব্দুল কাদের, জেলা কারাগারের জেল সুপার মোস্তফা কামাল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিজ্ঞ পিপি এম এ ওয়াদুদ, বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু এবং সাধারণ সম্পাদক মো:হেদায়েত হোসেন লিটন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা প্রবেশন অফিসার শেখ সহিদুর রহমান।
বাগেরহাট জেলা কারাগারের সাজাপ্রাপ্ত ৩০ জন পুরুষ বন্দিকে এই দুই মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মক্ষম ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্দিরা যাতে কারাগার থেকে বের হয়ে সমাজে নতুনভাবে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারেন এবং অপরাধের পথ ছেড়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন—সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মহোদয় ঘোষণা দেন যে, প্রশিক্ষণ শেষে সফল প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীকে সনদ প্রদান করা হবে এবং সেরা ছয়জন প্রশিক্ষণার্থীকে বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন,”বিগত জীবনের ভুলত্রুটি মানুষের পথকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে, কিন্তু তা কখনোই একজন মানুষের জীবনের শেষ অধ্যায় হতে পারে না। অন্ধকার থেকে আলোয় ফিরে আসার সুযোগ প্রত্যেক মানুষেরই থাকা উচিত। অপরাধী মানেই সমাজের চিরতরে বর্জ্য নয়, বরং সঠিক শিক্ষা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং একটু মানবিক পরিচর্যার মাধ্যমে তাদের অনেকেই সমাজ ও দেশের অন্যতম সম্পদে রূপান্তরিত হতে পারে। আজকের এই ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কেবল একটি সাধারণ কর্মশালা নয়, এটি আপনাদের নতুন জীবন গড়ার এক সুবর্ণ সুযোগ। কারাগারে এই দুই মাস আপনারা সময়ের সদ্ব্যবহার করে এমন একটি বাস্তবমুখী ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন করুন, যা মুক্তি পাওয়ার পর আপনাদের জীবিকা নির্বাহের পথকে সুগম করবে। আপনাদের হাতের এই নিখুঁত কাজের ছোঁয়া যেন জেলখানার চার দেয়াল পেরিয়ে সমাজে আপনাদের নতুন পরিচয় তৈরি করে।
তিনি আরো বলেন, সরকার ও সমাজসেবা অধিদপ্তর আপনাদের পাশে রয়েছে। আপনারা এই প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে সমাজে ফিরে যাবেন এবং নিজের পরিবার ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা। প্রশিক্ষণ শেষে আপনাদের মধ্য থেকে সেরা যারা নিজেদের প্রমাণ করবেন, তাদের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে। আসুন, অতীতের গ্লানি মুছে একটি সুন্দর ও কর্মমুখর ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াই।”
Md.Liton 








