Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

মহাসড়ক বন্ধক রেখে ১৫ কোটি টাকার ঋণ, সেই প্রতারক গ্রেপ্তার

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 03:24:18 pm, Saturday, 16 April 2022
  • 193 বার
নিউজ ডেক্স: ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে অভিনব প্রতারণার কৌশল অবলম্বন করেছেন  গোলাম ফারুক। তিনি পেছনের তারিখে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অংশবিশেষের মালিকানা দেখিয়ে ব্যাংকের চোখে ধুলা দিয়েছেন। রাজধানীতে একটি হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই প্রতারককে আটক করেছে র‍্যাব।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, ২০০০ সাল থেকে গাড়ি আমদানিকারক হিসেবে ব্যবসা শুরু করেন। একটি বেসরকারি ব্যাংকে বন্ধকি সম্পত্তি ছাড়াই এলসি আবেদন করে গাড়ি আমদানি শুরু করেন। বিদেশি ব্যাংকের টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় বেসরকারি ব্যাংকটি আমদানি করা গাড়ি বিক্রি করে ঋণের অর্থ পরিশোধ করার শর্তে তাঁকে ৭ কোটি টাকা ডিমান্ড লোন দেয়। কিন্তু ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংক তাঁকে সম্পত্তি বন্ধক দেওয়ার জন্য চাপ দিলে সরকারি জমির মালিকানা দেখানোর ফন্দি আঁটেন।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ১৯৪৮ সালে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার আজমপুর অংশের জমির মূল মালিকের ছেলেকে খুঁজে বের করেন। সেই ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকায় জমিটি কিনে নেওয়ার চুক্তি করেন। ২০০৬ সালে তিনি স্ত্রীর নামে এই জমির ভুয়া দলিল তৈরি করেন। সরকার অধিগ্রহণ করার আগেই মূল মালিকের ছেলের কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন বলে দলিলে উল্লেখ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানিয়েছে, তাঁরা রাজধানীর বাড্ডায় হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া মহাসড়কের জমি ক্রয়-বিক্রয় করে প্রতারণামূলকভাবে ব্যাংকে বন্ধক দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার কথাও স্বীকার করেছেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, পরে ভুয়া দলিলটি ওই ব্যাংকে বন্ধক দিয়ে আরও ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেন গোলাম ফারুক। ঋণ পরিশোধ না করায় ২০১৩ সালে ব্যাংক অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে বন্ধকি জমি নিলামে বিক্রির নোটিশ জারি করে। ব্যাংক থেকে তখন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমিটি সরকারি। পরে ঘটনাটি একাধিক গণমাধ্যমে এলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে জমিজমা সংক্রান্ত প্রতারণা, হত্যাচেষ্টা, এনআই অ্যাক্ট, জালিয়াতি ইত্যাদি অপরাধে রাজউকের একটি, একটি বেসরকারি ব্যাংকের চারটি এবং সাধারণ মানুষ বাদী হয়ে তিনটিসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

মহাসড়ক বন্ধক রেখে ১৫ কোটি টাকার ঋণ, সেই প্রতারক গ্রেপ্তার

আপডেট টাইম : 03:24:18 pm, Saturday, 16 April 2022
নিউজ ডেক্স: ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে অভিনব প্রতারণার কৌশল অবলম্বন করেছেন  গোলাম ফারুক। তিনি পেছনের তারিখে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের অংশবিশেষের মালিকানা দেখিয়ে ব্যাংকের চোখে ধুলা দিয়েছেন। রাজধানীতে একটি হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই প্রতারককে আটক করেছে র‍্যাব।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, ২০০০ সাল থেকে গাড়ি আমদানিকারক হিসেবে ব্যবসা শুরু করেন। একটি বেসরকারি ব্যাংকে বন্ধকি সম্পত্তি ছাড়াই এলসি আবেদন করে গাড়ি আমদানি শুরু করেন। বিদেশি ব্যাংকের টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকায় বেসরকারি ব্যাংকটি আমদানি করা গাড়ি বিক্রি করে ঋণের অর্থ পরিশোধ করার শর্তে তাঁকে ৭ কোটি টাকা ডিমান্ড লোন দেয়। কিন্তু ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংক তাঁকে সম্পত্তি বন্ধক দেওয়ার জন্য চাপ দিলে সরকারি জমির মালিকানা দেখানোর ফন্দি আঁটেন।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ১৯৪৮ সালে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার আজমপুর অংশের জমির মূল মালিকের ছেলেকে খুঁজে বের করেন। সেই ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকায় জমিটি কিনে নেওয়ার চুক্তি করেন। ২০০৬ সালে তিনি স্ত্রীর নামে এই জমির ভুয়া দলিল তৈরি করেন। সরকার অধিগ্রহণ করার আগেই মূল মালিকের ছেলের কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন বলে দলিলে উল্লেখ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানিয়েছে, তাঁরা রাজধানীর বাড্ডায় হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া মহাসড়কের জমি ক্রয়-বিক্রয় করে প্রতারণামূলকভাবে ব্যাংকে বন্ধক দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার কথাও স্বীকার করেছেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, পরে ভুয়া দলিলটি ওই ব্যাংকে বন্ধক দিয়ে আরও ১৫ কোটি টাকা ঋণ নেন গোলাম ফারুক। ঋণ পরিশোধ না করায় ২০১৩ সালে ব্যাংক অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে বন্ধকি জমি নিলামে বিক্রির নোটিশ জারি করে। ব্যাংক থেকে তখন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমিটি সরকারি। পরে ঘটনাটি একাধিক গণমাধ্যমে এলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে জমিজমা সংক্রান্ত প্রতারণা, হত্যাচেষ্টা, এনআই অ্যাক্ট, জালিয়াতি ইত্যাদি অপরাধে রাজউকের একটি, একটি বেসরকারি ব্যাংকের চারটি এবং সাধারণ মানুষ বাদী হয়ে তিনটিসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে।