Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

গ্রাম আদালতে হামলা-ভাংচুর, পুলিশ সদস্য ছেলে-বাবাসহ চারজন কারাগারে

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 12:48:54 am, Tuesday, 21 June 2022
  • 179 বার

গ্রাম আদালতের শালিস বৈঠকে হামলা ও ভাংচুর এর ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যসহ একই পরিবারের চারজনকে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার:বাগেরহাট সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে গ্রাম আদালতের শালিস বৈঠকে হামলা ও ভাংচুর এর ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যসহ একই পরিবারের চারজনকে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলা এদিন বিকালে ওই চার জনকে বাগেরহাট চীফ জুডিশিয়াল আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক আবির পারভেজ তাদের কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন। রোববার বিকেলে সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে এই হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় ঠেকাতে এসে গ্রাম পুলিশসহ অন্তত চারজন আহত হয়। হামলা ও ভাংচুরে জড়িত দুই পুলিশ সদস্য হলেন, পুলিশ কনস্টেবল ফয়সাল আহম্মেদ নাদিম, তার বাবা আর্মড পুলিশের এস আই ফারুক আহম্মেদ। অপর দুইজন হলেন, নাদিমের দুই ভাই মেহেদী ও ইব্রাহীম। কনস্টেবল ফয়সাল আহম্মেদ নাদিম ঢাকার মিরপুর স্টাফ কলেজে কর্মরত এবং তার বাবা ফারুক আহম্মেদ খুলনার খানজাহান আলী সেতু টোল প্লাজায় আর্মড পুলিশের এস আই হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মেহেদী ও ইব্রাহীম দুজন-ই শিক্ষার্থী। সোমবার সকালে কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ এনে বাগেরহাট মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিতুর রহমান পল্টন বলেন, দুই বছর আগে কাড়াপাড়া গ্রামের মানিক শিকদারের মেয়ে হুমায়রা জান্নাতের সাথে একই এলাকার ফারুক আহম্মেদের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল ফয়সাল আহম্মেদ নাদিমের বিয়ে হয়। সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে নাদিমের মা ইউনিয়ন পরিষদে বিরোধ মিমাংসার জন্য আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে দুই পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে রোববার গ্রাম্য আদালতের দিন ধার্য করা হয়। সেই অনুযায়ী এদিন বিকেলে শালিস বৈঠকের এক পর্যায়ে নাদিম উত্তেজিত হয়ে তার স্ত্রীর দিকে তেড়ে যায়। এসময় বাধা দিলে নাদিম ও তার ভাইয়েরা মারধর শুরু করে। এতে গ্রাম পুলিশের দফাদার লুৎফর রহমান, গ্রাম পুলিশ নয়ন ও ফরহাদ এবং স্থানীয় জাহাঙ্গীর আহত হন। এর মধ্যে দফাদার লুৎফুর এর মাথা ফেটে যাওয়ায় তাকে খুলনার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নাদিমের স্ত্রী হুমায়রা জান্নাত বলেন, আমার স্বামী পরকিয়ায় আসক্ত ছিল। আমি মানা করলেই আমাকে মারত। আমার বাচ্চা নষ্ট করতে বলেছে, রাজি না হওয়ায় এখন বাচ্চা অস্বীকার করছে। প্রায় একবছর কোনো ভরনপোষণ ও দেয় না। এছাড়া বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য স্বামী-শাশুড়ি আমার উপর নানাভাবে নির্যাতন করত। একপর্যায়ে টাকা না দেওয়ায় আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। আমার ২২ দিনের শিশু সন্তান রয়েছে। আশা করেছিলাম সন্তান নিয়ে স্বামীর ঘরে সুখে শান্তিতে বসবাস করব। কিন্তু শালিস বৈঠকে আমার পরিবার এমনকি স্থানীয়দের অপমান করেছে তারা।

হুমায়রার বাবা মানিক শিকদার বলেন, বিয়ের পর থেকেই বিশ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য মেয়েকে চাপ প্রয়োগ করত নাদিম ও তার পরিবার। টাকা না দেওয়ায় মেয়ের উপর প্রায় সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত তারা। এমনকি অন্তঃস্বত্তা অবস্থায় মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বর্তমানে তার ২২দিন বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। শালিস বৈঠকে এধরনের হামলা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়। আমি এই ঘটনা সুষ্ঠ এবং কঠোর বিচার দাবি করি।

এদিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আগে ফয়সাল আহম্মেদ নাদিম বলেন, আমরা হামলা করিনি, উপরন্তু মার খেয়েছি। আবার ঝামেলায়ও পড়েছি।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে ইউনিয়ন পরিষদে শালিসের মধ্যে হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার চার জনকে এদিন দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

গ্রাম আদালতে হামলা-ভাংচুর, পুলিশ সদস্য ছেলে-বাবাসহ চারজন কারাগারে

আপডেট টাইম : 12:48:54 am, Tuesday, 21 June 2022

গ্রাম আদালতের শালিস বৈঠকে হামলা ও ভাংচুর এর ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যসহ একই পরিবারের চারজনকে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার:বাগেরহাট সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে গ্রাম আদালতের শালিস বৈঠকে হামলা ও ভাংচুর এর ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যসহ একই পরিবারের চারজনকে আদালতে মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলা এদিন বিকালে ওই চার জনকে বাগেরহাট চীফ জুডিশিয়াল আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক আবির পারভেজ তাদের কারাগারে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন। রোববার বিকেলে সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে এই হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এসময় ঠেকাতে এসে গ্রাম পুলিশসহ অন্তত চারজন আহত হয়। হামলা ও ভাংচুরে জড়িত দুই পুলিশ সদস্য হলেন, পুলিশ কনস্টেবল ফয়সাল আহম্মেদ নাদিম, তার বাবা আর্মড পুলিশের এস আই ফারুক আহম্মেদ। অপর দুইজন হলেন, নাদিমের দুই ভাই মেহেদী ও ইব্রাহীম। কনস্টেবল ফয়সাল আহম্মেদ নাদিম ঢাকার মিরপুর স্টাফ কলেজে কর্মরত এবং তার বাবা ফারুক আহম্মেদ খুলনার খানজাহান আলী সেতু টোল প্লাজায় আর্মড পুলিশের এস আই হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মেহেদী ও ইব্রাহীম দুজন-ই শিক্ষার্থী। সোমবার সকালে কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগ এনে বাগেরহাট মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

কাড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিতুর রহমান পল্টন বলেন, দুই বছর আগে কাড়াপাড়া গ্রামের মানিক শিকদারের মেয়ে হুমায়রা জান্নাতের সাথে একই এলাকার ফারুক আহম্মেদের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল ফয়সাল আহম্মেদ নাদিমের বিয়ে হয়। সম্প্রতি পারিবারিক কলহের জেরে নাদিমের মা ইউনিয়ন পরিষদে বিরোধ মিমাংসার জন্য আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে দুই পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে রোববার গ্রাম্য আদালতের দিন ধার্য করা হয়। সেই অনুযায়ী এদিন বিকেলে শালিস বৈঠকের এক পর্যায়ে নাদিম উত্তেজিত হয়ে তার স্ত্রীর দিকে তেড়ে যায়। এসময় বাধা দিলে নাদিম ও তার ভাইয়েরা মারধর শুরু করে। এতে গ্রাম পুলিশের দফাদার লুৎফর রহমান, গ্রাম পুলিশ নয়ন ও ফরহাদ এবং স্থানীয় জাহাঙ্গীর আহত হন। এর মধ্যে দফাদার লুৎফুর এর মাথা ফেটে যাওয়ায় তাকে খুলনার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নাদিমের স্ত্রী হুমায়রা জান্নাত বলেন, আমার স্বামী পরকিয়ায় আসক্ত ছিল। আমি মানা করলেই আমাকে মারত। আমার বাচ্চা নষ্ট করতে বলেছে, রাজি না হওয়ায় এখন বাচ্চা অস্বীকার করছে। প্রায় একবছর কোনো ভরনপোষণ ও দেয় না। এছাড়া বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য স্বামী-শাশুড়ি আমার উপর নানাভাবে নির্যাতন করত। একপর্যায়ে টাকা না দেওয়ায় আমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। আমার ২২ দিনের শিশু সন্তান রয়েছে। আশা করেছিলাম সন্তান নিয়ে স্বামীর ঘরে সুখে শান্তিতে বসবাস করব। কিন্তু শালিস বৈঠকে আমার পরিবার এমনকি স্থানীয়দের অপমান করেছে তারা।

হুমায়রার বাবা মানিক শিকদার বলেন, বিয়ের পর থেকেই বিশ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য মেয়েকে চাপ প্রয়োগ করত নাদিম ও তার পরিবার। টাকা না দেওয়ায় মেয়ের উপর প্রায় সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত তারা। এমনকি অন্তঃস্বত্তা অবস্থায় মেয়েকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বর্তমানে তার ২২দিন বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। শালিস বৈঠকে এধরনের হামলা তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়। আমি এই ঘটনা সুষ্ঠ এবং কঠোর বিচার দাবি করি।

এদিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আগে ফয়সাল আহম্মেদ নাদিম বলেন, আমরা হামলা করিনি, উপরন্তু মার খেয়েছি। আবার ঝামেলায়ও পড়েছি।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কে এম আরিফুল হক বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে ইউনিয়ন পরিষদে শালিসের মধ্যে হামলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার চার জনকে এদিন দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।