Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

বাগেরহাটে পলিথিনের ছাপড়া ঘরে পানির মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 05:42:58 pm, Monday, 12 September 2022
  • 191 বার

এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পলিথিনের ছাপড়া ঘরে হাঁটু পানিতে শিক্ষার্থীরা নিচ্ছেন পাঠদান। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দুর্ঘটনার আশংকায় ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে কমছে। স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি একটি সাইক্লোন-কাম স্কুল ভবন নির্মাণের। রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজোপাড়াগায়ে চিংড়াখালী ইউনিয়নের সিংজোড় গ্রামে ১৪৪নং গাজী আজিজুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৪৯ সালে স্থাপিত হয় এ বিদ্যালয়টি। শিক্ষার্থী রয়েছে ৬৮ জন। ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেনীতে ক্লাশ হচ্ছিল মাঠের মধ্যে পলিথিন টাঙ্গানো ছাপড়া ঘরে হাঁটু পানিতে। একদিকে পূর্নিমার অতিরিক্ত জোয়ারের পানি। অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষের ঘরে ছাত্র-ছাত্রীদের হাঁটু পানিতে ভিজে পাঠদান দিচ্ছেন শিক্ষকরা। মাঠের চারদিকে পানি থৈ থৈ করছে। তবুও থেমে নেই পাঠদান। বৈরি আবহাওয়াও মধ্যেও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মত।

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাজরা, অরুন চন্দ্র মিন্ত্রী সহ একাধিক শিক্ষার্থীরা বলেন, কবে হবে আমাদের বিদ্যালয়ের নতুন ভবন? এভাবে পানিতে ভিজে ক্লাশ করতে খুবই কষ্ট হয়। বড় স্যাররা আমাদের এ কষ্টের কথা কি জানতে পারবেন। এ রকম নানা প্রশ্ন তুললেন সংবাদকর্মীদের কাছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা।

ক্লাশে পাঠদানকারি শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে এরকম দিনের পর দিন পার করছি। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য নতুন ভবন দরকার।

বাগেরহাটে পলিথিনের ছাপড়া ঘরে পানির মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

১৯৯৫ সালে সরকারিভাবে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট নতুন ভবন হলেও সে ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি শ্রেণীকক্ষের পলেস্তরা খসে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন দুই শিক্ষার্থী। অভিভাবকরা আতংকে স্কুলে পাঠাতে চাচ্ছে না ছেলে মেয়েদের। ছাদে দেখা দিয়েছে ফাটল। শ্রেণিকক্ষের গ্রেড ভিম ভেঙ্গে পড়ে বেড়িয়ে এসেছে রড। দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে দুই শিক্ষার্থী। ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনটিতে পাঠদান না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টার সহকারি শিক্ষা অফিসার পরিদর্শন করে লিখিতভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মো. আব্দুল মালেক হাওলাদার, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. ওয়ালিউর রহমান গাজী, সাবেক সভাপতি সন্তোষ কুমার রায় বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থায়ী পলিথিনের ঘরে এভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাশ হচ্ছে। একটি সাইক্লোন কাম-স্কুল ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী ইউনিয়নের ৩ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সমীর কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষের পলেস্তরা খসে পড়ে দুর্ঘটনার পরপরই। সহকারি শিক্ষা অফিসার পরিদর্শনে এসে ভবনটির শ্রেণীকক্ষে পাঠদান না করার জন্য লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার সহ নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তরে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

এ সর্ম্পকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জালাল উদ্দিন খান বলেন, বিদ্যালয়টি পরিত্যাক্ত ঘোষণার জন্য আবেদনে সুপারিশ প্রেরণ করা হয়েছে। নতুন ভবনের জন্য তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্ত করে অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এরকম একটি বিদ্যালয়ের বিষয়ে তিনি অবহিত নন। তবে, সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়টি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাটে পলিথিনের ছাপড়া ঘরে পানির মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

আপডেট টাইম : 05:42:58 pm, Monday, 12 September 2022

এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পলিথিনের ছাপড়া ঘরে হাঁটু পানিতে শিক্ষার্থীরা নিচ্ছেন পাঠদান। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দুর্ঘটনার আশংকায় ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে কমছে। স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি একটি সাইক্লোন-কাম স্কুল ভবন নির্মাণের। রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অজোপাড়াগায়ে চিংড়াখালী ইউনিয়নের সিংজোড় গ্রামে ১৪৪নং গাজী আজিজুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৪৯ সালে স্থাপিত হয় এ বিদ্যালয়টি। শিক্ষার্থী রয়েছে ৬৮ জন। ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেনীতে ক্লাশ হচ্ছিল মাঠের মধ্যে পলিথিন টাঙ্গানো ছাপড়া ঘরে হাঁটু পানিতে। একদিকে পূর্নিমার অতিরিক্ত জোয়ারের পানি। অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষের ঘরে ছাত্র-ছাত্রীদের হাঁটু পানিতে ভিজে পাঠদান দিচ্ছেন শিক্ষকরা। মাঠের চারদিকে পানি থৈ থৈ করছে। তবুও থেমে নেই পাঠদান। বৈরি আবহাওয়াও মধ্যেও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মত।

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাজরা, অরুন চন্দ্র মিন্ত্রী সহ একাধিক শিক্ষার্থীরা বলেন, কবে হবে আমাদের বিদ্যালয়ের নতুন ভবন? এভাবে পানিতে ভিজে ক্লাশ করতে খুবই কষ্ট হয়। বড় স্যাররা আমাদের এ কষ্টের কথা কি জানতে পারবেন। এ রকম নানা প্রশ্ন তুললেন সংবাদকর্মীদের কাছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা।

ক্লাশে পাঠদানকারি শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে এরকম দিনের পর দিন পার করছি। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য নতুন ভবন দরকার।

বাগেরহাটে পলিথিনের ছাপড়া ঘরে পানির মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

১৯৯৫ সালে সরকারিভাবে ৪ কক্ষ বিশিষ্ট নতুন ভবন হলেও সে ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি শ্রেণীকক্ষের পলেস্তরা খসে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন দুই শিক্ষার্থী। অভিভাবকরা আতংকে স্কুলে পাঠাতে চাচ্ছে না ছেলে মেয়েদের। ছাদে দেখা দিয়েছে ফাটল। শ্রেণিকক্ষের গ্রেড ভিম ভেঙ্গে পড়ে বেড়িয়ে এসেছে রড। দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে দুই শিক্ষার্থী। ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনটিতে পাঠদান না করার জন্য সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টার সহকারি শিক্ষা অফিসার পরিদর্শন করে লিখিতভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যালয়টি।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মো. আব্দুল মালেক হাওলাদার, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. ওয়ালিউর রহমান গাজী, সাবেক সভাপতি সন্তোষ কুমার রায় বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অস্থায়ী পলিথিনের ঘরে এভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাশ হচ্ছে। একটি সাইক্লোন কাম-স্কুল ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী ইউনিয়নের ৩ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সমীর কুমার চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষের পলেস্তরা খসে পড়ে দুর্ঘটনার পরপরই। সহকারি শিক্ষা অফিসার পরিদর্শনে এসে ভবনটির শ্রেণীকক্ষে পাঠদান না করার জন্য লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসার সহ নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তরে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

এ সর্ম্পকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জালাল উদ্দিন খান বলেন, বিদ্যালয়টি পরিত্যাক্ত ঘোষণার জন্য আবেদনে সুপারিশ প্রেরণ করা হয়েছে। নতুন ভবনের জন্য তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্ত করে অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এরকম একটি বিদ্যালয়ের বিষয়ে তিনি অবহিত নন। তবে, সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়টি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।