Dhaka , Monday, 2 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

বাগেরহাটে পাওনা টাকার দাবিতে বেঙ্গল এলপিজির সামনে ঠিকাদারের অবস্থান কর্মসূচি

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 01:11:33 pm, Friday, 13 September 2024
  • 244 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের মোংলায় ঠিকাদারি কাজের পাওনা টাকা পাওয়ার দাবিতে বেঙ্গল এলপিজির সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে মা ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী ও তার লোকজন। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধিকারি মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সরবরাহকারী মোজাফফর রহমান ও শ্রমিকরা ফ্যাক্টরীর সামনে অবস্থান নেয়। এসময়, অবস্থানকারীদের “পাওনা টাকা দিয়ে দেও, নইলে গেটে তালা দেও, গরীবের পেটে লাথি মারা চলবে না” এসব স্লোগান দিতে শোনা যায়।

মা ইঞ্জিনিয়ারিং‘র স্বত্ত্বাধিকারি মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালে বেঙ্গল এলপিজি স্থাপন হওয়ার সময় এখানে রাস্তা সহ অনেকগুলো কনস্ট্রাকশনের কাজ আমি করি। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বেঙ্গল এলপিজি ফাইনালি অপারেশনে যায়। কাজ চলমান অবস্থায় তারা আমাকে কিছু বিল দিয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পরে আমি বেঙ্গল এলপিজির কাছে এক কোটি ৩১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা পেতাম। যার বিল জমা দেওয়া আছে। কিন্তু প্লান্ট অপারেশনে যাওয়ার পরে তারা আমার ঠিকাদারি কাজের বিল দেওয়া নিয়ে গড়িমশি শুরু করে। ২০২২ সালের ৫ মে বেঙ্গল গ্রুপকে টাকার জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। এরপরও তারা যখন টাকা দেয়নি তখন এখানে অবস্থান ধর্মঘট করেছিলাম। এরপরে দুই বছরের বেশি সময় অতিক্রম হলেও বেঙ্গল গ্রুপ আমাকে কোন টাকা দেয়নি।

ব্যবসায়ী মোঃ সিরাজুল ইসলাম আর বলেন, এর মধ্যে ২০২৩ সালে বেঙ্গল গ্রুপ এই এলপিজি প্লান্টটি সিটি গ্রুপের কাছে বিক্রি করে দেয়। বিক্রির বিষয়টি জানতে পেরে বেঙ্গল গ্রুপ ও সিটি গ্রুপ দুই পক্ষের সাথেই পাওনা টাকার বিষয়ে যোগাযোগ করি। তারা টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, এখন পর্যন্ত টাকা পরিশোধ করেননি। যার কারণে আজকে শ্রমিক ও পাওনাদারদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। আমার বৈধ কাজের টাকা, যেকোনো মূল্যে এই টাকা পেতে চাই।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মোজাফফর হোসেন নামের এক বালু ব্যবসায়ী বলেন, মা ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাথে চুক্তির ভিত্তিতে বেঙ্গল এলপিজির প্লান্টে বালু দিয়েছিলাম। কিন্তু এখনো অনেক টাকা বাকি রয়েছে। সিরাজুল ইসলামের কাছে টাকা চাইলে তিনি বলেন কোম্পানি আমাকে এখনো টাকা পরিশোধ করেনি। বেঙ্গল ও সিটি গ্রুপ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান, তারা চাইলেই এই অল্প কিছু টাকা দিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু তারা ইচ্ছা করে টাকা দিচ্ছে না। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এই বালু সরবরাহকারী।

বেঙ্গল এলপিজি প্লান্ট এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ইসলাম বলেন, মা ইঞ্জিনিয়ারিং এই প্লান্ট চালু হওয়ার আগে বেশ কিছু কাজ করেছেন। কাজের বিষয়ে আর্থিক লেনদেন হত প্রধান কার্যালয় থেকে। তার দাবির বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন কাগজপত্র পর্যালোচনা করে যদি মা ইঞ্জিনিয়ারিং টাকা পায়, বিষয়টির সমাধান করা হবে।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, অবস্থান ধর্মঘটের কথা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উভয়পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাটে পাওনা টাকার দাবিতে বেঙ্গল এলপিজির সামনে ঠিকাদারের অবস্থান কর্মসূচি

আপডেট টাইম : 01:11:33 pm, Friday, 13 September 2024

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাটের মোংলায় ঠিকাদারি কাজের পাওনা টাকা পাওয়ার দাবিতে বেঙ্গল এলপিজির সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে মা ইঞ্জিনিয়ারিং নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী ও তার লোকজন। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধিকারি মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সরবরাহকারী মোজাফফর রহমান ও শ্রমিকরা ফ্যাক্টরীর সামনে অবস্থান নেয়। এসময়, অবস্থানকারীদের “পাওনা টাকা দিয়ে দেও, নইলে গেটে তালা দেও, গরীবের পেটে লাথি মারা চলবে না” এসব স্লোগান দিতে শোনা যায়।

মা ইঞ্জিনিয়ারিং‘র স্বত্ত্বাধিকারি মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালে বেঙ্গল এলপিজি স্থাপন হওয়ার সময় এখানে রাস্তা সহ অনেকগুলো কনস্ট্রাকশনের কাজ আমি করি। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে বেঙ্গল এলপিজি ফাইনালি অপারেশনে যায়। কাজ চলমান অবস্থায় তারা আমাকে কিছু বিল দিয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পরে আমি বেঙ্গল এলপিজির কাছে এক কোটি ৩১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা পেতাম। যার বিল জমা দেওয়া আছে। কিন্তু প্লান্ট অপারেশনে যাওয়ার পরে তারা আমার ঠিকাদারি কাজের বিল দেওয়া নিয়ে গড়িমশি শুরু করে। ২০২২ সালের ৫ মে বেঙ্গল গ্রুপকে টাকার জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। এরপরও তারা যখন টাকা দেয়নি তখন এখানে অবস্থান ধর্মঘট করেছিলাম। এরপরে দুই বছরের বেশি সময় অতিক্রম হলেও বেঙ্গল গ্রুপ আমাকে কোন টাকা দেয়নি।

ব্যবসায়ী মোঃ সিরাজুল ইসলাম আর বলেন, এর মধ্যে ২০২৩ সালে বেঙ্গল গ্রুপ এই এলপিজি প্লান্টটি সিটি গ্রুপের কাছে বিক্রি করে দেয়। বিক্রির বিষয়টি জানতে পেরে বেঙ্গল গ্রুপ ও সিটি গ্রুপ দুই পক্ষের সাথেই পাওনা টাকার বিষয়ে যোগাযোগ করি। তারা টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, এখন পর্যন্ত টাকা পরিশোধ করেননি। যার কারণে আজকে শ্রমিক ও পাওনাদারদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। আমার বৈধ কাজের টাকা, যেকোনো মূল্যে এই টাকা পেতে চাই।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মোজাফফর হোসেন নামের এক বালু ব্যবসায়ী বলেন, মা ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাথে চুক্তির ভিত্তিতে বেঙ্গল এলপিজির প্লান্টে বালু দিয়েছিলাম। কিন্তু এখনো অনেক টাকা বাকি রয়েছে। সিরাজুল ইসলামের কাছে টাকা চাইলে তিনি বলেন কোম্পানি আমাকে এখনো টাকা পরিশোধ করেনি। বেঙ্গল ও সিটি গ্রুপ অনেক বড় প্রতিষ্ঠান, তারা চাইলেই এই অল্প কিছু টাকা দিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু তারা ইচ্ছা করে টাকা দিচ্ছে না। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এই বালু সরবরাহকারী।

বেঙ্গল এলপিজি প্লান্ট এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ার জহিরুল ইসলাম বলেন, মা ইঞ্জিনিয়ারিং এই প্লান্ট চালু হওয়ার আগে বেশ কিছু কাজ করেছেন। কাজের বিষয়ে আর্থিক লেনদেন হত প্রধান কার্যালয় থেকে। তার দাবির বিষয়ে প্রধান কার্যালয়ে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন কাগজপত্র পর্যালোচনা করে যদি মা ইঞ্জিনিয়ারিং টাকা পায়, বিষয়টির সমাধান করা হবে।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, অবস্থান ধর্মঘটের কথা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উভয়পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।।