Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

বাগেরহাটে ১৪৮ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 09:30:50 pm, Sunday, 18 October 2026
  • 202 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাট ১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল। দীর্ঘ ১৪৮ বছর ধরে বাগেরহাটসহ গোটা দক্ষিানঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রেখে আসছে। ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন অধ্যক্ষ, শিক্ষকবৃন্দ, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ বাগেরহাটবাসী। এলাকাবাসীর দাবি, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা স¤প্রসারণে ইতিবাচক ভুমিকা পালন করবে।
বাগেরহাটে ১৪৮ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে শততম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়। কালের বিবর্তনে বাগেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, বাগেরহাট স্কুল, টাউন স্কুলসহ নানা নামে এ জনপদের আলোকবর্তিকা হিসেবে দ্যুতি ছড়িয়ে আসছে। সর্বশেষ ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলেজ শাখায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্তির মাধ্যমে বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নীলা আক্তার বলেন, জেলার সবচেয়ে পুরাতন এই বিদ্যালয়ে আমার পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে। বিদ্যালয়টি যদি জাতীয়করণ করা হয় তবে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা স্বল্প ব্যয়ে এখানে পড়াশোনা করতে পারবে। এই বিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা করে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

৮ম শ্রেণীর শোভন বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে দেশের জাতীয় পর্যায়েও একাধিক পুরস্কার লাভ করে সুনাম অর্জন করেছে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হলে আরো সামনে দিকে এগিয়ে যাবে। সরকারের কাছে দাবি জানাই আমাদের বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হোক। প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ মুস্তাক আহমেদ জানান, বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল শুধু পাঠ্যক্রম ভিত্তিক শিক্ষায় নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব রয়েছে আমাদের শিক্ষার্থীদের। এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী কৃতি ক্রিকেটার রুবেল আহমেদ ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় তপু।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাবেক অধ্যক্ষ খান সালেহ আহম্মদ তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির অতীতের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষকদের পাঠদানের অসাধারণ কলাকৌশল ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতার স্মৃতি। তিনি ১৯৬১ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। দেশের কতশত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হলো অথচ বাগেরাহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যেও সাথে জড়িত দেড়শত বছরের পুরাতন এই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলো না। আশা করছি, বর্তমান সরকার এই দিকে নজর দিবে। আরো এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুর রব বলেন, এই বিদ্যালয়ের পূর্বে নাম ছিল হাই ইংলিশ স্কুল। আমি এই বিদ্যালয় থেকে আমি ১৯৬৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেছি। অথচ সেই স্কুলটা আজও অবহেলিত রয়ে গেছে। দেশের সমস্ত স্কুলগুলো জাতীয়করণ হয়ে গেলেও আমার কোন দুঃখ নেই। শিক্ষার মানউন্নয়ন হোক এটাই চাই। তবে আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি অতি দ্রæত জাতীয়করণ হোক।
বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম, এ সালাম বলেন, ১৮৭৮ সালে ভৈরব তীরে গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দেশের সুনাম বয়ে আনছে। দীর্ঘ ১৪৮ বছর পার করলেও বিদ্যালয়টি এখনো জাতীয়করণ করা হয়নি। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটের তথা দক্ষিণ অঞ্চলের পুরাতন এই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করবেন। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ফারহানা আক্তার বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষী ভবন এখনো দাঁড়িয়ে আছে। আমরা এই প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী একটি অঙ্গীকার ছিল, শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা। তারই ধারাবাহিকতায় এই প্রতিষ্ঠানকে যাবতীয় তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২শ শিক্ষার্থী ও ৪৭ জন শিক্ষক কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। ১৪৮ বছরের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং তাদের লেখাপড়ার মান উন্নয়ন হবে। এখান থেকে আরো মেধাবী শিক্ষার্থী বের হয়ে আরো উচ্চ পর্যায়ে গিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বাগেরহাটে ১৪৮ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল

আপডেট টাইম : 09:30:50 pm, Sunday, 18 October 2026

বাগেরহাট প্রতিনিধি:বাগেরহাট ১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল। দীর্ঘ ১৪৮ বছর ধরে বাগেরহাটসহ গোটা দক্ষিানঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রেখে আসছে। ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন অধ্যক্ষ, শিক্ষকবৃন্দ, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ বাগেরহাটবাসী। এলাকাবাসীর দাবি, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ হলে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা স¤প্রসারণে ইতিবাচক ভুমিকা পালন করবে।
বাগেরহাটে ১৪৮ বছরেও জাতীয়করণ হয়নি বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে শততম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হয়। কালের বিবর্তনে বাগেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, বাগেরহাট স্কুল, টাউন স্কুলসহ নানা নামে এ জনপদের আলোকবর্তিকা হিসেবে দ্যুতি ছড়িয়ে আসছে। সর্বশেষ ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটি কলেজ শাখায় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠদানের অনুমতি প্রাপ্তির মাধ্যমে বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নীলা আক্তার বলেন, জেলার সবচেয়ে পুরাতন এই বিদ্যালয়ে আমার পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে। বিদ্যালয়টি যদি জাতীয়করণ করা হয় তবে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা স্বল্প ব্যয়ে এখানে পড়াশোনা করতে পারবে। এই বিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা করে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

৮ম শ্রেণীর শোভন বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময়ে দেশের জাতীয় পর্যায়েও একাধিক পুরস্কার লাভ করে সুনাম অর্জন করেছে। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হলে আরো সামনে দিকে এগিয়ে যাবে। সরকারের কাছে দাবি জানাই আমাদের বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হোক। প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ মুস্তাক আহমেদ জানান, বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুল শুধু পাঠ্যক্রম ভিত্তিক শিক্ষায় নয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব রয়েছে আমাদের শিক্ষার্থীদের। এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী কৃতি ক্রিকেটার রুবেল আহমেদ ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় তপু।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাবেক অধ্যক্ষ খান সালেহ আহম্মদ তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির অতীতের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষকদের পাঠদানের অসাধারণ কলাকৌশল ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতার স্মৃতি। তিনি ১৯৬১ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। দেশের কতশত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হলো অথচ বাগেরাহাটের ইতিহাস ও ঐতিহ্যেও সাথে জড়িত দেড়শত বছরের পুরাতন এই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলো না। আশা করছি, বর্তমান সরকার এই দিকে নজর দিবে। আরো এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক চৌধুরী আব্দুর রব বলেন, এই বিদ্যালয়ের পূর্বে নাম ছিল হাই ইংলিশ স্কুল। আমি এই বিদ্যালয় থেকে আমি ১৯৬৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেছি। অথচ সেই স্কুলটা আজও অবহেলিত রয়ে গেছে। দেশের সমস্ত স্কুলগুলো জাতীয়করণ হয়ে গেলেও আমার কোন দুঃখ নেই। শিক্ষার মানউন্নয়ন হোক এটাই চাই। তবে আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি অতি দ্রæত জাতীয়করণ হোক।
বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এম, এ সালাম বলেন, ১৮৭৮ সালে ভৈরব তীরে গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দেশের সুনাম বয়ে আনছে। দীর্ঘ ১৪৮ বছর পার করলেও বিদ্যালয়টি এখনো জাতীয়করণ করা হয়নি। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটের তথা দক্ষিণ অঞ্চলের পুরাতন এই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করবেন। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ফারহানা আক্তার বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষী ভবন এখনো দাঁড়িয়ে আছে। আমরা এই প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী একটি অঙ্গীকার ছিল, শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা। তারই ধারাবাহিকতায় এই প্রতিষ্ঠানকে যাবতীয় তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১২শ শিক্ষার্থী ও ৪৭ জন শিক্ষক কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। ১৪৮ বছরের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবে এবং তাদের লেখাপড়ার মান উন্নয়ন হবে। এখান থেকে আরো মেধাবী শিক্ষার্থী বের হয়ে আরো উচ্চ পর্যায়ে গিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।