Dhaka , Sunday, 1 November 2026
শিরোনাম :
বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা বাগেরহাটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল ৩১ অক্টোবর, অংশগ্রহণের আহ্বান বাগেরহাট জেলা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য ‘বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও রিপেয়ারিং’ প্রশিক্ষণ কোর্সের শুভ উদ্বোধন বাগেরহাটে মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউটরকে ছুরিকাঘাত ও ছিনতাই বাগেরহাটে স্কুল থেকে ফিরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যা ‘না বুঝে ভুল করেছি’ ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে ‘তালাকে’র ঘোষণা মাসুদের রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার পশ্চিমা চেষ্টা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ: মারিয়া জাখারোভা

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে মহিষের মৃত্যু

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 12:48:26 am, Thursday, 12 October 2023
  • 281 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:১১ দিনের ব্যবধানে পূর্ব সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে এবার মহিষের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে ধানসাগর স্টেশনের মূর্তির খাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বনে মহিষ খুঁজতে গিয়ে আংশিক খাওয়া অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন মহিষের মালিক। বাঘের আক্রমণে মৃত মহিষটি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের বনসংলগ্ন পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের শামছু হাওলাদারের। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এসব তথ্য জানান ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. কামাল হোসেন তালুকদার। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে ধানসাগর স্টেশনের তুলাতলা খালে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মারা যান একই গ্রামের জেলে শিপার হাওলাদার (২২)।

এর মাসখানেক আগে ওই গ্রামের সোবাহান পহলানের একটি মহিষ বনে ঘাস খাওয়ার সময় বাঘের আক্রমণে মারা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বেশ কিছুদিন ধরে লোকালয় সংলগ্ন বনে এভাবে বাঘের আনাগোনা বৃদ্ধি ও পর পর বাঘের আক্রমণে মানুষ ও গবাদিপশু মারা যাওয়ার ঘটনায় পশ্চিম রাজাপুর গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা গেছে।সন্ধ্যার পর বনের পাশের রাস্তাঘাট ও দোকানপাটে লোক সমাগমও কমে গেছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। এ ছাড়া সুন্দরবনকে লোকালয় থেকে বিভক্ত করে রাখা ভোলা নদী ভরাট হওয়ায় বাঘ সহজেই গ্রামে চলে আসছে। আগেও বিভিন্ন সময় ধানসাগর ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর, উত্তর রাজাপুরসহ বনের পাশের গ্রামগুলোতে বাঘ প্রবেশ করে গবাদিপশুর ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।বন লাগোয়া ভোলা নদীর চরে বসবাসকারী আলম হাওলাদার (৫৫), নজরুল হাওলাদার (৫০) ও লাইলী বেগম (৩৫) বলেন, ‘আমরা জঙ্গলে (বনের) পাশেই বাস করি। বাঘ আতঙ্কে আমাদের রাতে ঘুম হয় না। কোনো সময় জানি বাঘ ঘরে ঢুইকা পড়ে। গত বছর মরাভোলা নদী পার হইয়া কয়েকবার আমাদের গ্রামে বাঘ আসছে। মহিষের কারণে বাঘের আনাগোনা বাড়ছে। মহিষ জঙ্গলে যাওয়া বন্ধ না করলে বাঘ আসা কমানো যাবে না।’

বাগেরহাট জেলা পরিষদের সদস্য রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. হুমায়ুন করিম সুমন বলেন, ‘প্রতিদিন সামছু হাওলাদারসহ বনের পাশের বসবাসকারী কিছু পরিবার নিজেদের মহিষগুলো সকালে বনে ছেড়ে দেন। আবার বিকেলে ফিরিয়ে আনেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে সামছু হাওলাদার মহিষ খুঁজতে গিয়ে বনের মধ্যে বাঘে খাওয়া মহিষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।’

ধান সাগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য জাহাঙ্গীর তালুকদার বলেন, ‘বন বিভাগকে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে। বনে নজরদারি কম থাকায় অবাধে মহিষ-গরু চরানোর সুযোগ পাচ্ছেন বনের পাশের বাসিন্দারা। বছরের পর বছর ধরে এই অবৈধ কাজটি করছেন তাঁরা। এর ফলে বনের ক্ষুধার্ত বাঘ মহিষের লোভে বার বার লোকালয়ে চলে আসছে। আক্রমণ চালাচ্ছে মানুষ ও গবাদিপশুর ওপর। সম্প্রতি বাঘের আক্রমণে দুটি মহিষ ও এক জেলের মৃত্যুই এটি প্রমাণ করে। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই বন বিভাগকে।’

বাঘের আক্রমণে মহিষের মৃত্যুর বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান পূর্ব সুন্দরবনের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গত ১ অক্টোবর বন থেকে বাঘের আক্রমণে নিহত জেলে শিপার হাওলাদারের মাথা উদ্ধারের পর সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। অবৈধভাবে বনে প্রবেশ এবং গবাদিপশু বনে না পাঠানোর জন্য পরদিন ২ অক্টোবর বনের পাশের প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে উল্লেখিত সময়ের পর কেউ এ ধরনের কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত শনিবার রাতে অফিসের সামনে দুটি বাঘ আসার খবর নিশ্চিত করেন এসও রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিসের কাছাকাছি ও পুকুরপাড়ে প্রায়ই বাঘ চলে আসে।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে মহিষের মৃত্যু

আপডেট টাইম : 12:48:26 am, Thursday, 12 October 2023

বাগেরহাট প্রতিনিধি:১১ দিনের ব্যবধানে পূর্ব সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে এবার মহিষের মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার বিকেলে ধানসাগর স্টেশনের মূর্তির খাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বনে মহিষ খুঁজতে গিয়ে আংশিক খাওয়া অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন মহিষের মালিক। বাঘের আক্রমণে মৃত মহিষটি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের বনসংলগ্ন পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের শামছু হাওলাদারের। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এসব তথ্য জানান ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. কামাল হোসেন তালুকদার। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে ধানসাগর স্টেশনের তুলাতলা খালে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মারা যান একই গ্রামের জেলে শিপার হাওলাদার (২২)।

এর মাসখানেক আগে ওই গ্রামের সোবাহান পহলানের একটি মহিষ বনে ঘাস খাওয়ার সময় বাঘের আক্রমণে মারা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বেশ কিছুদিন ধরে লোকালয় সংলগ্ন বনে এভাবে বাঘের আনাগোনা বৃদ্ধি ও পর পর বাঘের আক্রমণে মানুষ ও গবাদিপশু মারা যাওয়ার ঘটনায় পশ্চিম রাজাপুর গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা গেছে।সন্ধ্যার পর বনের পাশের রাস্তাঘাট ও দোকানপাটে লোক সমাগমও কমে গেছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। এ ছাড়া সুন্দরবনকে লোকালয় থেকে বিভক্ত করে রাখা ভোলা নদী ভরাট হওয়ায় বাঘ সহজেই গ্রামে চলে আসছে। আগেও বিভিন্ন সময় ধানসাগর ইউনিয়নের পশ্চিম রাজাপুর, উত্তর রাজাপুরসহ বনের পাশের গ্রামগুলোতে বাঘ প্রবেশ করে গবাদিপশুর ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।বন লাগোয়া ভোলা নদীর চরে বসবাসকারী আলম হাওলাদার (৫৫), নজরুল হাওলাদার (৫০) ও লাইলী বেগম (৩৫) বলেন, ‘আমরা জঙ্গলে (বনের) পাশেই বাস করি। বাঘ আতঙ্কে আমাদের রাতে ঘুম হয় না। কোনো সময় জানি বাঘ ঘরে ঢুইকা পড়ে। গত বছর মরাভোলা নদী পার হইয়া কয়েকবার আমাদের গ্রামে বাঘ আসছে। মহিষের কারণে বাঘের আনাগোনা বাড়ছে। মহিষ জঙ্গলে যাওয়া বন্ধ না করলে বাঘ আসা কমানো যাবে না।’

বাগেরহাট জেলা পরিষদের সদস্য রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা মো. হুমায়ুন করিম সুমন বলেন, ‘প্রতিদিন সামছু হাওলাদারসহ বনের পাশের বসবাসকারী কিছু পরিবার নিজেদের মহিষগুলো সকালে বনে ছেড়ে দেন। আবার বিকেলে ফিরিয়ে আনেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে সামছু হাওলাদার মহিষ খুঁজতে গিয়ে বনের মধ্যে বাঘে খাওয়া মহিষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।’

ধান সাগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য জাহাঙ্গীর তালুকদার বলেন, ‘বন বিভাগকে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে। বনে নজরদারি কম থাকায় অবাধে মহিষ-গরু চরানোর সুযোগ পাচ্ছেন বনের পাশের বাসিন্দারা। বছরের পর বছর ধরে এই অবৈধ কাজটি করছেন তাঁরা। এর ফলে বনের ক্ষুধার্ত বাঘ মহিষের লোভে বার বার লোকালয়ে চলে আসছে। আক্রমণ চালাচ্ছে মানুষ ও গবাদিপশুর ওপর। সম্প্রতি বাঘের আক্রমণে দুটি মহিষ ও এক জেলের মৃত্যুই এটি প্রমাণ করে। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই বন বিভাগকে।’

বাঘের আক্রমণে মহিষের মৃত্যুর বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান পূর্ব সুন্দরবনের ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) মো. রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গত ১ অক্টোবর বন থেকে বাঘের আক্রমণে নিহত জেলে শিপার হাওলাদারের মাথা উদ্ধারের পর সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। অবৈধভাবে বনে প্রবেশ এবং গবাদিপশু বনে না পাঠানোর জন্য পরদিন ২ অক্টোবর বনের পাশের প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে উল্লেখিত সময়ের পর কেউ এ ধরনের কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত শনিবার রাতে অফিসের সামনে দুটি বাঘ আসার খবর নিশ্চিত করেন এসও রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিসের কাছাকাছি ও পুকুরপাড়ে প্রায়ই বাঘ চলে আসে।’