Dhaka , Wednesday, 4 November 2026
শিরোনাম :
মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে বাগেরহাটে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপির আনন্দ মিছিল বাগেরহাটকে অপরাধমুক্ত করতে জিরো টলারেন্স নীতি: পুলিশ সুপার বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সড়ক মন্ত্রীর উপহার বাগেরহাটে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে চেক বিতরণ বাগেরহাটে যুব রেড ক্রিসেন্ট কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাগেরহাটে ইউনিয়ন বিএনপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বাগেরহাটে গ্রীন হার্ট স্কুলের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, নজরুল বর্ষ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বাগেরহাট পৌর যুবদলের আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা

সিত্রাং বাগেরহাটের আমন চাষীদের জন্য আশীর্বাদ

  • Md.Liton
  • আপডেট টাইম : 06:29:46 pm, Thursday, 27 October 2022
  • 165 বার

বাগেরহাট প্রতিনিধি:অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় এ বছর আমন মৌসুমে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের রামপালের চাষীরা পানি সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়লেও সিত্রাং এর প্রভাবে পানি পেয়ে ভালো ফলনের আশা করছেন আমন চাষিরা। সার্বিকভাবে এবার আমন আবাদ কম হলেও আবাদ মৌসুমের শেষ সময়ে কৃষকেরা মাঠে নেমে আমন আবাদ করেছেন। এতে চলতি মৌসুমের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

কৃষক ফিরোজ কবির জানান, অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় চাষীরা একদম হাল ছেড়ে হতাশ হয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে ছিলেন। সময় মতো মৌসুমি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং পানিতে তীব্র লবনাক্ত থাকায় এবার হয়তো আমন আবাদ হবেই না এমনটা মনে করেছেন এলাকার কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কিছুটা বৃষ্টিপাত হওয়ায় আশার আলো দেখতে পান কৃষকেরা। মৌসুমের শেষ সময়ে অতি কষ্টে কৃষকরা নতুন করে জমিতে আমন আবাদ করেন। আমি প্রায় পাঁচ একর জমিতে আমন আবাদ করেছি। এখনো কোন রোগ বালাই লাগেনি। আশা করি ফলন ভালো হবে।

একই অনূভুতি ব্যক্ত করেন পার্শ্ববর্তী সিংগড় বুনিয়া গ্রামের সাইফুল মোল্লা। তিনি বলেন আমি ৪-৫ বিঘা জমিতে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আমন আবাদ করেছি। আবাদ মোটামুটি ভালো। সিত্রাং ঝড়ে ভীত হয়ে পড়েছিলাম। এখন দেখছি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমন আবাদের জন্য অশির্বাদ হয়ে পড়েছে। রামপাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রাণী মন্ডল তার সহকারী কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে আমন উৎপাদনে সার্বিক সহযোগিতায় কৃষকদের সাথে মাঠে কাজ করছেন। কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, কৃষি উপকরণ ও হাইব্রিড ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান বীজ বিতরণসহ সরকারের সকল সহায়তা প্রদান করে চলেছেন। মাঠে নেমে কৃষকদের উৎসাহিত করছেন। এতে রামপাল উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি চলে যান।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর। এর মধ্যে উফশী ৪ হাজার ২২০ হেক্টর, হাইব্রিড ৭০ হেক্টর ও স্থানীয় জাত ৩ হাজার ৯৬০ হেক্টর। কিন্তু আবাদ হয়েছে উফশী ৫ হাজার ৪৬৮ হেক্টর, হাইব্রিড ২৯৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২ হাজার ৭৫ হেক্টর আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মাত্র ৫ ভাগ আবাদ কম হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রাণী মন্ডল বলেন, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যাতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়। যে কোন প্রয়োজনে কৃষকগণ আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ বা সেবা নিতে পারবেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে বাগেরহাটে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

সিত্রাং বাগেরহাটের আমন চাষীদের জন্য আশীর্বাদ

আপডেট টাইম : 06:29:46 pm, Thursday, 27 October 2022

বাগেরহাট প্রতিনিধি:অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় এ বছর আমন মৌসুমে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের রামপালের চাষীরা পানি সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়লেও সিত্রাং এর প্রভাবে পানি পেয়ে ভালো ফলনের আশা করছেন আমন চাষিরা। সার্বিকভাবে এবার আমন আবাদ কম হলেও আবাদ মৌসুমের শেষ সময়ে কৃষকেরা মাঠে নেমে আমন আবাদ করেছেন। এতে চলতি মৌসুমের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

কৃষক ফিরোজ কবির জানান, অনাবৃষ্টি ও তীব্র খরায় চাষীরা একদম হাল ছেড়ে হতাশ হয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে ছিলেন। সময় মতো মৌসুমি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এবং পানিতে তীব্র লবনাক্ত থাকায় এবার হয়তো আমন আবাদ হবেই না এমনটা মনে করেছেন এলাকার কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কিছুটা বৃষ্টিপাত হওয়ায় আশার আলো দেখতে পান কৃষকেরা। মৌসুমের শেষ সময়ে অতি কষ্টে কৃষকরা নতুন করে জমিতে আমন আবাদ করেন। আমি প্রায় পাঁচ একর জমিতে আমন আবাদ করেছি। এখনো কোন রোগ বালাই লাগেনি। আশা করি ফলন ভালো হবে।

একই অনূভুতি ব্যক্ত করেন পার্শ্ববর্তী সিংগড় বুনিয়া গ্রামের সাইফুল মোল্লা। তিনি বলেন আমি ৪-৫ বিঘা জমিতে মৌসুমের শেষ সময়ে এসে আমন আবাদ করেছি। আবাদ মোটামুটি ভালো। সিত্রাং ঝড়ে ভীত হয়ে পড়েছিলাম। এখন দেখছি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আমন আবাদের জন্য অশির্বাদ হয়ে পড়েছে। রামপাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রাণী মন্ডল তার সহকারী কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে আমন উৎপাদনে সার্বিক সহযোগিতায় কৃষকদের সাথে মাঠে কাজ করছেন। কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, কৃষি উপকরণ ও হাইব্রিড ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান বীজ বিতরণসহ সরকারের সকল সহায়তা প্রদান করে চলেছেন। মাঠে নেমে কৃষকদের উৎসাহিত করছেন। এতে রামপাল উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি চলে যান।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর। এর মধ্যে উফশী ৪ হাজার ২২০ হেক্টর, হাইব্রিড ৭০ হেক্টর ও স্থানীয় জাত ৩ হাজার ৯৬০ হেক্টর। কিন্তু আবাদ হয়েছে উফশী ৫ হাজার ৪৬৮ হেক্টর, হাইব্রিড ২৯৫ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২ হাজার ৭৫ হেক্টর আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মাত্র ৫ ভাগ আবাদ কম হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রাণী মন্ডল বলেন, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যাতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়। যে কোন প্রয়োজনে কৃষকগণ আমাদের কাছ থেকে পরামর্শ বা সেবা নিতে পারবেন।